দুর্ঘটনার এক বছর পরও স্বামীর সন্ধান পাননি সোনা বানু। রানা প্লাজায় কর্মরত স্বামী আব্দুল করিমের সন্ধানে বেওয়ারিশ লাশের সাথে ডিএনএ টেস্টেও খোঁজ পাওয়া যায়নি। কিছু সাহায্য সহযোগিতা পেলেও ছোট দুই শিশুর ভবিষ্যত্ অন্ধকার দেখছেন তিনি। স্বামী নিখোঁজের পর জন্ম নেয়া সন্তানের ভরণ-পোষণে মাসিক ৩ হাজার টাকা পেলেও দীর্ঘমেয়াদী কোন সাহায্য পাননি তিনি। রানা প্লাজায় নিহত ও আহতদের পরিবারের সাহায্যে যেসকল উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা সবগুলোই স্বল্প ও মধ্যমেয়াদী।
রানা প্লাজা দুর্ঘটনার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক সেমিনারে এমন অভিযোগ করা হয়। দুর্ঘটনা পরবর্তী সাহায্য সহযোগিতার বিষয়ে দীর্ঘ এক বছর বিভিন্ন পর্যায়ে গবেষণা তথ্য উপস্থাপন করা হয় সেমিনারে।
মূল প্রবন্ধে সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন ক্রেতা প্রতিষ্ঠান মিলে ৭ কোটি ২০ লাখ ডলারের তহবিল করার ঘোষণা দিলেও পরবর্তীতে তারা এ তহবিলের আকার ৪ কোটি ডলারে নামিয়ে আনে। এতে মাত্র ৭০ লাখ ডলার জমা পড়েছে যার বড় অংশ দিয়েছে প্রাইমার্ক।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের ৭৭৭ জনকে চাকরি দেয়া হয়েছে। বাস্তব চিত্র হলো তারা এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে কর্মক্ষেত্রে যোগদিতে পারছে না। ক্ষতিগ্রস্তদের ৭০০ সন্তানকে সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। আহত অনেকেই রয়েছেন যাদের দীর্ঘমেয়াদী চিকিত্সা প্রয়োজন। এদের অনেকেই রয়েছেন যারা উদ্ধার কাজে অংশ নিয়ে পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
উল্লেখ্য, গতবছর ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে ১১৩৪ জন প্রাণ হারিয়েছে। করব দেয়ার পর ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে ২০৭ জনকে চিহ্নিত করা গেলেও ১২৭ জনকে এখনও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। ২৪৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। যার মধ্যে ৩৩২ জন মারাত্মকভাবে জখম ছিলেন।
সিপিডি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে সেমিনারে সঞ্চালনা করেন নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান। বক্তব্য রাখেন, শ্রম সচিব মিকাইল শিপার, সংসদ সদস্য শিরিন আখতার, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, নারী নেত্রী নাজমা আক্তার, গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি তৌহিদুর রহমান প্রমুখ।
অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, দুর্ঘটনা পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদী কার্যক্রমের অংশ হিসাবে একটি জাতীয় পর্যায়ের কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি একটি সুনির্দিষ্ট তথ্য ভাণ্ডার গড়ে তোলা প্রয়োজন, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষও সাহায্য সহযোগিতার তথ্য জানতে পারে।
দুর্ঘটনা পরবর্তী সর্বশেষ কার্যক্রমের বিষয়ে শ্রম সচিব মিকাইল শিপার জানান, এপর্যন্ত প্রায় ৮শ’ কারখানা পরিদর্শন করা হয়েছে, এরমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে ৭টি। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল হতে এ পর্যন্ত ৯৬২ জনকে ১৫ কোটি ৯ লাখ টাকা সহায়তা দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। তিনি জানান, নিহতদের উত্তরাধিকারী সনাক্তকরণসহ নানা জটিলতায় ১৭৩ জনকে এখন পর্যন্ত সরকারি তহবিল থেকে সহায়তা করা সম্ভব হয়নি।
