বরগুনায় এসপি ওসিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৩১
ঘুষ দাবি ও ভুয়া বাদি সাজিয়ে সাজানো ছিনতাই মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগে বরগুনার পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ, বরগুনা সদর থানার ওসি (তদন্ত) পুলক চন্দ্রসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে গতকাল বুধবার সকালে বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের লতাবাড়িয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য মোখলেসুর রহমান বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। বিচারিক হাকিম মঈনুদ্দিন নোমান মামলাটি গ্রহণ করে আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। মামলায় পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ, বরগুনা সদর থানার ওসি (তদন্ত) পুলক চন্দ্র রায়, এসআই জাহিদুল ইসলাম, এএসআই বাদল মৃধা, এসআই জাফর হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলার আর্জিতে বাদি অভিযোগ করেন, বরগুনার পুলিশ সুপার ও বরগুনা সদর থানার ওসি (তদন্ত) কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তার এবং তার ভাই-ভাগ্নে, ভাইয়ের ছেলেসহ অন্য আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন। এরইমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে দশটি মামলা দায়ের করে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার, মারধর ও জেল খাটিয়েছেন। গত ৪ মার্চ তার ছোটভাই রেজাউল করিমকে একটি মামলায় পুলিশ সন্দেহমূলকভাবে গ্রেপ্তার করে। এরপর আসামিরা তাঁদের কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ভাইকে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠায় । ১৪ দিন হাজতবাসের পর আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। এসব মামলায় তদ্বির করার ‘অপরাধে’ তাকে (বাদি) ও তার ভাই নিজামউদ্দিকে ২৯ মার্চ বিকালে তাদের বাড়ি থেকে আটক করে এবং দুই ভাইকে পিঠমোড়া করে কোমড়ে রশি বেঁধে মারধর করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর ভুয়া বাদি সাজিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ছিনতাই মামলা দায়ের করে। এরপর এই মামলায় তাদের (বাদি ও তার ভাই) জেলহাজতে পাঠায়। পরে ওই মামলায় তারা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে জামিন আবেদন করলে বিচারিক হাকিম গত ৯ এপ্রিল তাদের জামিন দেন এবং বাদিকে আদালতে হাজির করার জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। এরপর পুলিশ বাদিকে হাজির করতে না পেরে আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। একইভাবে তার আরেক ভাই রেজাউল করিম, ভগ্নিপতি মো. শাহজাহান, ভাগ্নে আল-আমিন ও ফুপাতো ভাই আক্কাস হোসেন, ভাইয়ের ছেলে ইমরান হোসেনকে গত ৩১ মার্চ আরেকটি মামলায় আসামি করে হয়রানি করা হয়।