চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবৃদ্ধি দেশের গড় প্রবৃদ্ধির দ্বিগুণ!

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১১
চট্টগ্রাম বন্দরের ১২৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আজ। ১৮৮৭ সালে প্রতিষ্ঠা পেলেও ১৯১০ সালে ৪টি জেটি প্রতিষ্ঠার পর বছরে মাত্র ৫০ হাজার টন পণ্য হ্যান্ডলিং-এর মাধ্যমে এ বন্দরের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এটি বছরে প্রায় সাড়ে ৪৪ লাখ টন কার্গো হ্যান্ডলিং করতে সক্ষম। দেশের আমদানি-রপ্তানির শতকরা ৯৫ ভাগই এ বন্দর দিয়ে হয়ে থাকে। বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার শতকরা সাড়ে ৬ ভাগ ধরা হলেও সেক্ষেত্রে এ বন্দরের প্রবৃদ্ধি শতকরা প্রায় ১৩ গুণ। যা সরকারের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির তুলনায় দ্বিগুণ। বন্দরে বর্তমানে ৬টি জেনারেল বার্থ এবং ১১টি কন্টেইনার বার্থের মাধ্যমে পণ্য হ্যান্ডলিং হয়ে থাকে। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের অধীনে রয়েছে ৩টি অয়েল জেটি, ১টি সাইলো জেটি, ১টি সিমেন্ট ক্লিংকার জেটি। চট্টগ্রাম বন্দরে এক সময় বিদেশি জাহাজ আসতে অনাগ্রহ দেখাতো। কয়েক বছর পূর্বেও একটি জাহাজের গড় অবস্থান কাল ছিল ১১-১২ দিন। যা বর্তমানে ৩ দিনে এসে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ আসার পরিমাণও অনেক বেড়েছে। ২০১১ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ আগমনের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২৪৮টি। ২০১২ সালে ২ হাজার ২৭৬টি এবং ২০১৩ সালে তা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৩৯টিতে। বন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিংও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০১১ সালে কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৪৩ লাখ ১৪ হাজার টন। ২০১২ সালে হয় ৪১ লাখ ৯৩ হাজার টন। ২০১৩ সালে তা দাঁড়িয়েছে ৪৪ লাখ ২৯ হাজার টনে। এ ক্ষেত্রে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর । সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বন্দরের উন্নয়নে বর্তমানে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প চালু রয়েছে। আরো প্রায় ১৫টি প্রকল্পের কাজ শীঘ্রই শুরু হচ্ছে। তাছাড়া আরো ৮টি ছোট-বড় প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের যে প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে তা অব্যাহত রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরের ক্যাপাসিটি ৪০ হাজার টিইইউএস-এ উন্নীত করতে হবে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে তা অর্জিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন, সরকার যে ৬টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে তার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি বৃদ্ধিসহ গভীর সমুদ্র বন্দর ও পায়রা বন্দর নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।