সাভার রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় হতাহতের জন্য সরকার নানা ধরনের কল্যাণমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। ঘটনার পর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশনায় এসব কল্যাণমুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন থাকা অবস্থায় এদেশের শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, দানশীল ব্যক্তি, নানা পেশার লোকজন ও বিদেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশিরা নগদ অর্থ দিয়ে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। বিজিএমইএর পক্ষ থেকে আর্থিকসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করা হয়। এখনও সেই সহযোগিতা চলছে। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ জাতিসংঘসহ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের আওতায় নিহতদের পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২২ কোটি ১১ লাখ ৫৫ হাজার ৭২০ টাকা বিতরণ করা হয়। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা যাতে সুবিধা পায়, সেই জন্য ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে স্বজনদের প্রত্যেককে (বাবা, মা, ভাইবোন, স্ত্রী বা স্বামী) আলাদাভাবে চেক দেয়া হয়েছে। ২২টি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ১ কোটি ৪২ লাখ ১৪ হাজার টাকা, আহত উদ্ধারকর্মী কায়কোবাদকে উন্নত চিকিত্সার জন্য ৩৫ লাখ এবং অশনাক্ত শ্রমিকদের জন্য ৫০ লাখ টাকা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, পরবর্তীতে কায়কোবাদ মারা যায়। ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ৭৭৭ জনকে সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দিয়েছে। নিহত শ্রমিকদের ১৪ অনাথ শিশুকে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ হোমে আশ্রয় ও শিক্ষার সুযোগ এবং আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে আরও ১৭টি শিশু শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। এছাড়াও নিহতদের আরও তিনশ’ শিশু সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ সরকার চূড়ান্ত করেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের অর্থ সহায়তা প্রদানে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) গ্লোবাল ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ১৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেয়া হয়েছে। এ টাকা থেকে তিন হাজার জনকে সহায়তা দেয়া হচ্ছে। ২০০৯ সালে গঠনের পর দুই দফায় তৈরি পোশাক শ্রমিকদের মজুরি ২২৬ শতাংশ বাড়ানো হয়। আইএলও রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রায় ১৩৬ কোটি টাকা বিতরণ করবে শীঘ্রই। আইএলও এর তহবিলে প্রায় ১৭ মিলিয়ন ডলার বিভিন্ন বিদেশি প্রতিষ্ঠান জমা দিয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য বিজিএমইএ ও অন্যান্য সংস্থা কর্তৃক চিকিত্সা সহায়তা, বেতন এবং পুনর্বাসনে ১৪ কোটি ৫০ লাখ ৮ হাজার টাকা দেয়া হয়। এরমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ফান্ড থেকে ২ কোটি টাকার অনুদান রয়েছে।
