ডাক্তারদের গ্রামে থাকার অভ্যাস গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:২৮
যুগান্তকারী জাতীয় ওষুধ নীতি প্রণয়নের অন্যতম রূপকার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী চিকিত্সকদের গ্রামে থেকে দরিদ্র সাধারণ মানুষের চিকিত্সা সেবা দেয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। আর এই উদ্যোগের অংশ হিসাবে সাভার গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের নবীন ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস শুরু হওয়ার পূর্বেই একমাস প্রত্যন্ত গ্রামে পাঠিয়ে দেয়া হয়। গ্রামবাংলার মানুষের সুখ-দুঃখ, স্বাস্থ্য সমস্যা জানা এবং গ্রামে থাকার অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যেই মেডিক্যালের নবীন ছাত্র-ছাত্রীদের গ্রামে পাঠানোর উদ্দেশ্য। আর গ্রামে যাওয়া এই শতাধিক নবীন শিক্ষার্থীর মধ্যে অর্ধশতাধিক ছাত্রীও ছিলেন। গাইবান্ধার চরাঞ্চল, ভোলার চরফ্যাশন, ফেনীর সোনাগাজীসহ ৪টি প্রত্যন্ত অঞ্চলে যান শিক্ষার্থিগণ। সঙ্গে ছিলেন গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ। প্রবীন বয়সেও ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী দক্ষিণাঞ্চলের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামে যাওয়া মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রায় এক সপ্তাহ কাটিয়ে তাদের উত্সাহ দিয়েছেন। দেশের গরীব মানুষের চিকিত্সা সেবা আন্দোলনের সংগঠক ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী ইত্তেফাককে জানান, দেশের বেশিরভাগ গ্রাম, থানা, উপজেলায় চিকিত্সকের পোস্টিং দেয়া হলে তারা গ্রামে থাকতে চান না। প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চেষ্টা সত্ত্বেও ডাক্তারদের মানসিকতার তেমন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় না। অথচ দেশের ৮৫ ভাগ গ্রামবাংলার মানুষের ঘাম ঝরানো টাকায় পরিচালিত হয় দেশের মেডিক্যাল শিক্ষা ব্যবস্থা। তাই গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই গ্রামে থাকার অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে গণস্বাস্থ্য। তিনি মনে করেন, দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের গ্রামে পাঠিয়ে তাদের মানসিকতা পরিবর্তনের শিক্ষা দেয়া উচিত। কারণ পাস করার পর এসব শিক্ষার্থীর ওপর আর কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তারা গ্রামে পোস্টিং হলেও গ্রামে থাকতে চান না। শিক্ষার্থীরা এক মাস গ্রামে থেকে সাভারে শিক্ষাঙ্গনে ফিরে আসলে তাদের উত্সাহ প্রদান এবং তাদের গ্রামে থাকার অভিজ্ঞতা জানার জন্য সাভারে গণস্বাস্থ্য কেন্দে সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন দেশের প্রখ্যাত হূদরোগ বিশেষজ্ঞ ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের মহাসচিব জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব:) এ মালিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মেজবাহ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো: দেলোয়ার হোসেন ও কলেজের অধ্যক্ষ ডা. লায়লা পারভীন বানু। অনুষ্ঠানে ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী, সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ, শিরিন হকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের অতিথিগণ তাদের বক্তব্যে গ্রাম ফেরত শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা শুনে মুগ্ধ হন এবং তাদের ধন্যবাদ জানান। এদিকে চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে গ্রামে একমাস অবস্থান করা মেডিক্যাল, ডেন্টাল ও ফিজিওথেরাপির শিক্ষার্থীরা যে কাজ করেছেন তার একটি দীর্ঘ বর্ণনা উপস্থাপন করেন। রুবাইয়া নামের একজন নবীন শিক্ষার্থী তাদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বললেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গ্রামের অনেক পরিবারের সম্পর্কটা হয়ে যায় একেবারে পিতা-মাতা সন্তানের মত। এমনই সম্পর্কের সেতু বন্ধন তৈরি করার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজের নবীন শিক্ষার্থীরা।