অদৃশ্য চাদর
হ্যারি পটারের হ্যারি এক ধরনের কোট পরে অদৃশ্য হয়ে ঘুরে বেড়ায় এবং শত্রুদের গোপন খবর জানতে চেষ্টা করে। এরকম কোনো চাদর কি বাস্তবে সম্ভব? বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘হ্যাঁ সম্ভব।’ জার্মানির একদল বিজ্ঞানী মিলে এ রকম একটি চাদর বানিয়ে ফেলেছেন। এই চাদরটি বানানো হয়েছে কাঠের টুকরোর সাথে সামঞ্জস্য আছে এ রকম কিছু ফটোটনিক কেলাস (ক্রিষ্টাল) ও সোনার পাত দিয়ে। পরীক্ষাস্তরে এর আকার খুবই ছোট (দৈর্ঘ্যে মাত্র ১০০ মাইক্রন ও প্রস্থে ৩০ মাইক্রন) হলেও বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন একে বড় আকারে তৈরি করতে। এর আগে আরেক গবেষণায় উদ্ভাবিত একটি বস্তু দ্বিমাত্রিকভাবে অদৃশ্য হলেও তৃতীয় মাত্রা থেকে তা অনায়াসে দেখা যেত। ত্রিমাত্রিকস্তরে সাফল্য এই প্রথম।
সাপ আকাশে উড়ে
মোটামুটি ৫ প্রজাতির সাপ উড়তে পারে। তবে এই উড়াকে পাখির আকাশে উড়ার সাথে তুলনা করা যাবে না। সাপের উড়ার পদ্ধতি অনেকটা গ্লাইডিংয়ের মতো। মোটামুটি ৮০ ফিট দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম এরা। লাফ দেওয়ার সময় এরা সরাসরি নিচের দিকে না পড়ে কিছুটা সামনের দিকে এগিয়ে যায়। ‘আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটি’র মতে, সাপগুলো শরীরের আকৃতি অনেকটা ভোঁতা যা উর্ধ্বমুখী বাতাসের দ্বারা কিছুটা বাধাপ্রাপ্ত হয়। আর সাপের আকৃতি অনেকটা অ্যারো ডায়নামিক অর্থাত্ দ্রুতগতিতে সামনের দিকে যাওয়ার সময় বাতাসের দ্বারা খুব একটা বাধাপ্রাপ্ত হয় না। উড়ার পূর্বে এরা শরীরকে বিশেষ একটি আকৃতিতে নিয়ে আসে এবং তীব্র বেগে সামনের দিকে ছুঁড়ে দেয়। এরপর শরীরকে আগ-পিছ করে বাতাসের সাথে একটি সামঞ্জস্যতা তৈরি করে নেয় যা এটিকে অনেকটা সামনের দিকে নিয়ে যায়।
উড়ল জৈব জ্বালানির উড়োজাহাজ
বিশ্বে প্রথমবারের মতো জৈব জ্বালানি শক্তি ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে উড়ল একটি উড়োজাহাজ। ‘ভার্জিন আটলান্টিক’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি লন্ডন থেকে আমস্টারডাম পর্যন্ত এ ফ্লাইটটি পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করছে, এর মাধ্যমে সাধারণ জেট প্লেনে ব্যবহূত জ্বালানির তুলনায় অনেক কম কার্বন ডাই-অক্সাইড উত্পন্ন হবে। উড়োজাহাজটির চারটি প্রধান জ্বালানি ট্যাঙ্কের একটিতে নারকেল ও নারকেল জাতীয় আরেকটি বিশেষ ফলের তেলের একটি জৈব জ্বালানি মিশ্রণ ব্যবহার করে এটিকে উড়ানো হয়।
নবায়নযোগ্য শক্তি
বায়োডিজেল হলো উদ্ভিজ্জ তেল থেকে তৈরি এক ধরনের বিকল্প বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি। রসায়নের ভাষায় বায়োডিজেল হলো উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত তেলের মিথাইল বা ইথাইল এস্টার। রাসায়নিক শক্তিই হলো বায়োডিজেলের শক্তির উত্স। বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ থেকেই বিশ্বব্যাপী তৈরি হচ্ছে বায়োডিজেল। সাধারণত সূর্যমুখী, নারিকেল, সুগারবিট, আখ, পাম, সয়াবিন প্রভৃতি উদ্ভিদই বায়োডিজেল তৈরির বহুল ব্যবহূত উত্স। সাধারণত প্রচলিত পেট্রোলিয়াম ডিজেলের সাথে মিশিয়ে বায়োডিজেল ব্যবহার করা হয়। বায়োডিজেল ব্যবহারে রয়েছে অনেকগুলো সুবিধা। এগুলো হলো—উত্পাদন খরচ কম, উত্পাদন করার প্রক্রিয়া সহজ, দাম কম, পরিবেশ বান্ধব, অবিষাক্ত, ইঞ্জিনের কোনো ক্ষতি করে না, বায়োডিজেল ব্যবহার করতে সাধারণত ইঞ্জিনে কোনো ধরনের রূপান্তরের প্রয়োজন হয় না।
মহাবিশ্ব কত বড়
কত বড় আমাদের এই মহাবিশ্ব? দূরত্ব পরিমাপের জন্য আমরা প্রতিনিয়ত যে এককসমূহ ব্যবহার করি তা দিয়ে মহাকাশের বিশালতাকে প্রকাশ করা এতটা সহজ নয়। বিজ্ঞানীরা পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যবর্তী দূরত্বকে একক হিসেবে নির্বাচন করেছেন। প্রচলিত এককে এই দূরত্ব হলো ১.৫ x ১০৮ কি.মি.= ১৫০০০০০০০ কি.মি.। এই দূরত্বকে মহাকাশ বিদ্যাতে বলা হয় ১ অট (অর্থাত্, ১ অট = ১৫০০০০০০০ কি.মি.)। এই একক ব্যবহার করলে সূর্য ও প্লুটো-এর মধ্যবর্তী দূরত্ব হয় ৮০ অট অর্থাত্ ৪০ x ১৫০০০০০০০ কি.মি. = ৬০০০০০০০০০ কি.মি। সৌরজগত থেকে সর্বাপেক্ষা নিকটবর্তী তারার দূরত্ব হলো ৩,০০,০০০ অট। পরিষ্কার রাতে আকাশে সুন্দর সাদা মেঘের মতো মিল্কি ওয়ে দেখা যায়। এগুলো মিলিয়ন মিলিয়ন তারার সমষ্টি ছাড়া আসলে আর কিছুই নয়। দূরত্ব পরিমাপের আরেকটি এককের নাম হলো আলোক বর্ষ। আলো এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করে সেই দূরত্বকে এক আলোকবর্ষ বলে। মহাবিশ্বের সর্বাপেক্ষা দূরবর্তী তারা এবং আমাদের মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো কয়েক বিলিয়ন আলোকবর্ষ।
হাবল টেলিস্কোপ
পৃথিবী থেকে সাধারণ টেলিস্কোপেও মহাকাশ দেখা যায়। তবে এতে প্রধান সমস্যা হলো—মহাকাশের যে চিত্র দেখা যায় তা কিছুটা ঝাপসা। কারণ টেলিস্কোপ আর মহাকাশের মাঝে থাকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল। ঠিক এ কারণেই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৬০০ কিলোমিটার উপরে বায়ুমণ্ডলে মহাশূন্যে স্থাপন করা হয়েছে হাবল টেলিস্কোপ। মার্কিন জ্যোতিবির্দ এডুইন হাবলের নামানুসারে রাখা ২.৪ মিটার দীর্ঘ এই টেলিস্কোপকে ১৯৯০ সালের ২৪ এপ্রিল মহাশূন্যযান ডিসকভারি মহাশূন্যে স্থাপন করে। এই টেলিস্কোপটি পৃথিবী থেকে কয়েক বিলিয়ন আলোক বর্ষ দূরের গ্যালাক্সিও স্পষ্ট হয়ে উঠে।
মিষ্টিতে বিড়ালের না!
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একদল বিজ্ঞানী জানিয়েছেন বিড়ালজাতীয় প্রাণীরা মিষ্টি জাতীয় খাবার পছন্দ করে না। বিড়ালজাতীয় প্রাণীর এ তালিকায় গৃহপালিত বিড়াল, বন্য বিড়াল ছাড়াও আছে বাঘ এমনকি সিংহও! সাধারণত বেশির ভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণীরাই মিষ্টিজাতীয় খাবার খেতে পছন্দ করলেও, এসব প্রাণীদের স্বাদ গ্রহণের জন্য দায়ী জিনে ত্রুটি থাকায় মাছ-মাংস খেতে পছন্দ করলেও মিষ্টিজাতীয় খাবারে এদের রুচি নেই একদম।
গ্রন্থনা সাইফুল ইসলাম জুয়েল
