ফেলিক্স বমগার্টনার অস্ট্রিয়ান স্কাইডাইভার। অস্ট্রীয় সেনাবাহিনীতে থাকার সময়ই তিনি ছিলেন বিশেষজ্ঞ প্যারাস্যুটিস্ট। তিনি ১৯৯৯ সালে কুয়ালালামপুরের পেট্রোনাস টাওয়ারের ওপর থেকে লাফ দেন। সবচেয়ে উঁচু ভবন থেকে লাফ দেওয়ার বিশ্বরেকর্ড এটি। ২০০৩ সালে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তিনি বিশেষভাবে তৈরি কার্বন ফাইবারের ডানা ব্যবহার করে আকাশে উড়ে ইংলিশ চ্যানেল পার হন স্কাই ডাইভ দিয়ে।
লাফ দেওয়ার আগে বলেন, ‘জানি পুরো বিশ্বই এখন আমাকে দেখছে। হায়, আমি যা দেখছি, সেটা যদি আপনারাও দেখতে পেতেন! আপনি যে কত ক্ষুদ্র, সেটা উপলদ্ধি করার জন্য আপনাকে কখনও কখনও অনেক উঁচুতে উঠে আসা উচিত।’ বিশেষভাবে তৈরি পোশাক পরে ৩৯ কিলোমিটার ওপর থেকে লাফিয়ে নামেন পৃথিবীর মাটিতে। বমগার্টনার প্রথম মানুষ হিসেবে কোনো ধরনের বাহন ছাড়াই শব্দের গতি অতিক্রম করে গেছেন। ফ্রি ফল ডাইভিংয়ের একপর্যায়ে তার গতি ছিল ঘণ্টায় ১৩৪২ দশমিক ১ কিলোমিটার (৮৩৩ দশমিক ৯ মাইল)। ১৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর রসওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এয়ার সেন্টারে ‘রেড বুল স্ট্যাটস’ নামের এই সফল মিশনে লেখা হলো আরও দুটো রেকর্ড। হিলিয়াম গ্যাসে ভর্তি মানুষ বহনকারী বেলুন উঠল সর্বোচ্চ উচ্চতায়-৩৯ হাজার ৪৫ মিটারে (এক লাখ ২৮ হাজার ১০০ ফুট)। এত ওপর থেকে এর আগে লাফায়নি কেউ। দীর্ঘতম লাফের রেকর্ডও তাই হয়ে গেল। তার ফ্রি ফলের স্থায়িত্ব ছিল চার মিনিট ১৯ সেকেন্ড। মাত্র ১৭ সেকেন্ডের জন্য ১৯৬০ সালে দেওয়া গুরু জোসেফ কিটিংগারের ফ্রি ফলের রেকর্ডটি ভাঙতে পারেননি
বমগার্টনার। বমগার্টনারের লাফ সরাসরি ইউটিউবে দেখেছে ৮০ লাখ মানুষ। একই সঙ্গে সরাসরি (লাইভ স্ট্রিমিং) কোনো ঘটনা এত মানুষ এর আগে কখনোই ইউটিউবে দেখেনি। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে বমগার্টনার জানান, তিনি লাফ দিতে চান আকাশের সর্বোচ্চ উচ্চতা থেকে। তার এই স্বপ্ন পূরণে আর্থিক সহায়তা দিতে এগিয়ে আসে রেড বুল। ‘রেড বুল’-এর সঙ্গে স্ট্র্যাটসফিয়ারের (ভূ-পৃষ্ঠ ছাড়িয়ে ১০ থেকে ৬০ কিলোমিটারের মধ্যবর্তী শূন্যস্থান) ‘স্ট্র্যাটস’ নিয়ে নামকরণ করা হয় এই মিশনের। এ বছর মার্চ ও জুলাইয়ে দুটো প্রস্তুতিমূলক লাফ দেন বমগার্টনার।
