লিন্ডসের পথচলা

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৪, ১৮:৩৬
ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবতে শুরু করেন তিনি অন্যসব ছেলেমেয়েদের থেকে অনেকটা আগেই। আর সেসময় থেকেই এ পথকেই জীবনের আর্দশ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তিনি পরিবেশ বিদ্যার উপর ডিগ্রি নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মাঝপথে তার সাথে পরিচয় হয় ফটোগ্রাফির। এরপর শুরু করেন ফটোগ্রাফির পথে যাত্রা। এটাকেই বেছে নেন ক্যারিয়ার হিসেবে। তার কথা লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম ফটোগ্রাফি নিয়ে জড়িয়ে গিয়ে সে অনুধাবন করেন, এই পেশাটিই তাকে টানে বেশি। ব্যাস শুরু হয়ে গেল তার ফটোগ্রাফির পথে যাত্রা। অন্যসব চিন্তা বাদ দিয়ে তিনি ওয়েডিং ফটোগ্রাফিকেই তার ক্যারিয়ারের ব্রেক হিসেবে বেছে নেন। ছোটবেলা থেকেই অফিসে বসে নিয়মমাফিক রুটিনে কাজ করার ব্যাপারটা অপছন্দ ছিলো। সেই সাথে তার ভেতর কাজ করতো কখনও কোন অফিসে কেরানির মত কাজ করবেন না। ব্যাবসা করারটা তার কাছে অনেক সহজ মনে হত। আর সেই ইচ্ছে থেকেই তার এতদূর আসা। বর্তমানে তিনি একটি ওয়েডিং ফার্মের মালিক। লিন্ডসে ম্যাথিউ, এক মেধাবী কিশোরী, যে তার নিজস্ব ওয়েডিং ইন্ডাস্ট্রি প্রতিষ্ঠা করে মাত্র ১৪ বছর বয়সে। আজকাল অনেকের হাতেই দেখা যায় এসএলআর ক্যামেরা। সেই সাথে ফটো তোলার প্রতিযোগিতা। অনেকেই ব্যপারটার সাথে পরিচিত হয়ে গেছেন। কেউ আর অবাক হয়ে চেয়ে থাকে না যে অদ্ভুত দর্শন ক্যামেরা টাইপের জিনিসটা নিয়ে মানুষগুলো কি করছে। অবাক করে না ১৪-১৫ বছরের কিশোর-কিশোরিদের হাতে ক্যামেরা দেখলে, তাদের ছবি তুলতে দেখলে। কিন্তু একটু হলেও সবাই অবাক হবে শুনলে যে, এমনই ১৪-১৫ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরি ফটোগ্রাফি নিয়ে প্রফেশনালদের মত কাজ করছে। ঠিক এমনটাই ঘটেছে লিন্ডসের এর বেলায়। তিনি মাত্র ১৪ বছর বয়স থেকেই ফটোগ্রাফি শুরু করে। তাও শখের বশে না, পেশা হিসেবে। এত ছোট্ট বয়স থেকেই তিনি ‘ওয়েডিং ফটোগ্রাফি’ অর্থাত্, বিয়েতে ছবি তোলার কাজ শুরু করে। প্রথমে তিনি কাজটা করতেন বিনামূল্যেই। এরপর ধীরে ধীরে তিনি তার এই কাজকে টাকা উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। লিন্ডনের মায়ের কাছ থেকেই প্রথম ফটোগ্রাফি বিষয়টা তার সামনে আসে। তার মা ছিলেন পেশাগত ওয়েডিং ফটোগ্রাফার। প্রথমে তিনি তার মাকে সাহায্য কারার জন্য কাজটা করতেন। এভাবে চলতে চলতে প্রায় ২ বছরের মধ্যে তিনি এই পেশার সাথে ওতোপ্রতভাবে জড়িয়ে পরেন। অবশ্য, বিয়ে সাজানো থেকে শুরু করে ছবি তোলার কাজ তিনি একাই করতেন। আসলে তিনি এই পেশাটাকে খুব বেশি পছন্দ করতো। আর সেই আনন্দ থেকেই মূলত তার এই পথে আসা এবং পথ চলা। নিজের সম্পর্কে তিনি এভাবেই ব্যক্ত করে, ‘আমি ফটোগ্রাফি শুরু করি আমার মায়ের কারনে। তিনি পেশাগত ওয়েডিং ফটোগ্রাফার ছিলো। সেই সেকেই আমারও এর মধ্যে জড়িয়ে যাওয়া।’ ২০০৮ সালের ভেতর তার সংগ্রহে যে পরিমান ছবি জমা হয়, তাতে খুব সহজেই বলা যায়, তিনি ফটোগ্রাফিতে প্রাইমারি অংশটা পার করে ফেলেছে। এর ঠিক এক বছরের মধ্যে, ২০০৯ সালে, তার কাজের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫ এ। অর্থাত্, প্রায় ২৫ টার মতো ওয়েডিং-এ তিনি পেশাগতভাবে কাজ করেছেন। এছাড়াও স্টুডিওর সাথে মিলে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৪০টার মতো বর ও কনের পোর্ট্রেট ছবিও তোলার কাজ করেছে। তার সেই কাজের সংখ্যা প্রায় ৪০ এর মতো। ইতমধ্যে ফটোগ্রাফি ব্যবসাতে তিনি ভালই নাম কারেছে। কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন তার এ ব্যবসাকে আরো উপরে নিয়ে যেতে। এক কথায় তার ইচ্ছা, তার এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ফটোগ্রাপি জগতে ভাল নাম কামাবেন, সেই সাথে রয়েছে অর্থের প্রয়োজন। এই ভাবনা থেকে এক সময় খুলে ফেলেন একটি ওয়েব সাইট। নাম দেন, মাই ম্যরেজ মার্কেট।