গ্রাহকদের ১শ কোটি টাকা নিয়ে ‘গ্রামীণ শক্তি’ উধাও

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৪, ২০:৫৯
গ্রামীণ শক্তি (প্রফেসর ইউনূসের প্রতিষ্ঠান নয়) নামে একটি বেসরকারি সংস্থা মানিকগঞ্জ থেকে এক’শ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছে। গ্রাহকরা তাদের আমানত হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন ধরেই মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ঐ প্রতিষ্ঠানের অফিসগুলোতে তালা ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। কেউ খোঁজ দিতে পারছে না সংস্থাটির সভাপতি মাসুদ রানার। একইভাবে মূল কার্যালয়সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৭টি অফিসের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীরও কোন খোঁজ পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা গত রবিবার সানবান্ধা গ্রামে মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে এবং গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত তার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। আমানতের টাকা ফেরত চেয়ে কয়েকশ গ্রাহক বিক্ষোভ করেছেন বালিরটেক অফিসের সামনে। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা তালা ভেঙ্গে অফিসে ঢুকে আসবাবপত্র ভাংচুর করে। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিক্ষোভকারীদের শান্ত করে অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন। চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন জানান, মাসুদ রানা পালিয়েছে। আগে থেকেই তার নামে অভিযোগ ছিল। কিন্তু প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সে নির্বিঘ্নে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। জানা গেছে, ২০০৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জেলা সমবায় অফিস থেকে গ্রামীণ শক্তি নামে একটি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির (বহুমুখী সমবায় সমিতি) রেজিষ্ট্রেশন নেয় মাসুদ রানা। যার রেজিঃ নং- ১৯১। প্রায় গ্রামীণ ব্যাংকের অনুরূপ প্রতীক ব্যবহার করে জেলার বিভিন্নস্থানে লাগানো হয় সাইনবোর্ড। বেকার যুবকদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে চাকরি দেয়া হয় এই প্রতিষ্ঠানে। গ্রামের সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয় এই গ্রামীণ শক্তি গ্রামীণ ব্যাংকেরই অংগ প্রতিষ্ঠান। এরপর পুরোদস্তুর ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাতে থাকে মাসুদ রানা। এককালীন আমানত সংগ্রহ, ডিপিএস, পাঁচ বছরে দ্বিগুণ, প্রতি লাখে মাসে দুই হাজার টাকা লাভ প্রদানসহ বিভিন্ন হিসাবের নামে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করতে থাকে। এছাড়া সে ২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণ শক্তি নামে রেজিস্ট্রেশনের জন্য সমাজ সেবা অধিদপ্তরে আবেদন করে। এসময় শুধু গ্রামীণ শক্তির নামে সে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যেতে থাকে। গ্রামীণ শক্তির কোন এমআরএ সনদ না থাকলেও জেলার বিভিন্নস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত বলে ও এমআরএ’র ভুয়া নম্বর ব্যবহার করে প্রচুর সাইনবোর্ড ও প্রচারপত্র লাগানো হয়। জেলার প্রায় ৮ হাজার গ্রাহকের নিকট থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে আমানত সংগ্রহ করে প্রায় এক শ কোটি টাকা নিয়ে শেষ পর্যন্ত উধাও হয়ে গেল মাসুদ রানা। এ ব্যাপারে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির সহকারী পরিচালক মো: ফরিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গ্রামীণ শক্তি নামে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানই বাংলাদেশে দীর্ঘদিন যাবত কাজ করে আসছে। আর সেটির চেয়ারম্যান হচ্ছেন নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মানিকগঞ্জের মাসুদ রানার গ্রামীণ শক্তি নামে কোন প্রতিষ্ঠান আছে বলে আমি জানি না। আর এমআরএ সনদ দেয়ার তো প্রশ্নই উঠে না। সদর থানা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, আমি বার বার মাসুদ রানাকে এসব অপকর্ম বন্ধ করতে বলেছি। এসব ব্যাপারে আমার কোন দায়িত্ব নেই, দায়িত্ব জেলা কর্মকর্তার। জেলা সমাজ সেবার উপ-পরিচালক কিরন শংকর বিশ্বাস বলেন, গ্রামীণ শক্তির এসব অনিয়মের ব্যাপারে আমি পূর্বেই জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলাম। গ্রাহকদের অভিযোগ সরকারি কর্মকর্তারা জেনে শুনে কেন এই প্রতারককে ব্যবসা করার সুযোগ দিলেন।