ময়মনসিংহের নান্দাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় নুরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার সময় পিকআপের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে রাস্তার মাঝখানে ছিটকে পড়েন তিনি। এ সময় বেশ কয়েকটি যানবাহন তাঁর ওপর দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এছাড়া অন্যান্য স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় আরও ৫ জন নিহত হয়েছে। খবর আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের।
ময়মনসিংহ : গত বৃহস্পতিবার রাতে নান্দাইল উপজেলার মুশুলি ইউনিয়নের পালাহার এলাকায় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে দুর্ঘটনায় নুরুল ইসলাম নিহত হন। তিনি উপজেলার পালাহার গ্রামের আবদুল জব্বারের ছেলে। নুরুল ইসলাম কৃষিকাজের পাশপাশি নান্দাইল চৌরাস্তায় একটি হোটেল পরিচালনা করতেন। পুলিশ জানায়, রাতে হোটেল থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন নুরুল। সঙ্গে আরেকজন যাত্রী ছিলেন। পালাহার এলাকায় পৌঁছালে থেমে থাকা একটি পিকআপের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে রাস্তার মাঝখানে ছিটকে পড়েন নুরুল। এ সময় বেশ কয়েকটি যানবাহন তাঁর ওপর দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। অপর আরোহী রাস্তার পাশে গিয়ে পড়েন। তিনি গুরুতর আহত হন। চিকিত্সার জন্য তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।নান্দাইল মহাসড়ক থানার ওসি মো. মামুন রহমান বলেন, ঘটনার সময় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। এ কারণে দুর্ঘটনার খবরটি মহাসড়ক থানা পুলিশ তাত্ক্ষণিকভাবে জানতে পারেনি। পরে খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পাবনা, বেড়া ও ঈশ্বরদী : পাবনায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে জেলার বেড়া উপজেলায় ট্রাকচাপায় অটোভ্যান চালক নাজিম উদ্দিন এবং ঈশ্বরদী উপজেলায় বাসচাপায় মিল শ্রমিক হামিদুর প্রামানিক ও ট্রাক-মোটর সাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে কলেজছাত্রী পিয়া নিহত হয়েছেন।
মাধপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক আব্দুল খালেক জানান, শুক্রবার সকালে অটোভ্যান চালক নাজিম উদ্দিন বেড়া সিএন্ডবি বাজারের গোলচত্বর থেকে যাত্রী নিয়ে চাকলা আসার অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় পঞ্চগড় থেকে পাবনাগামী পাথর বোঝাই ট্রাক সেখানে ঘুরতে গেলে ধাক্কায় ভ্যানচালক নাজিম ছিটকে ট্রাকের নিচে পড়ে ঘটনাস্থলে মারা যান। এদিকে জেলার ঈশ্বরদীতে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন মিল শ্রমিক হামিদুর প্রামানিক।
অপরদিকে ঈশ্বরদীতে ট্রাক-মোটর সাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে পিয়া (২৩) নামে এক কলেজ ছাত্রী নিহত হয়েছেন। তার বাবা আশরাফুল ইসলাম এ ঘটনায় আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা সদর হতে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে সাহাপুর ইউনিয়নের বাঁশেরবাদা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত পিয়ার বাড়ি সাহাপুরের আজিজল তলায়। পিয়া পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। নিহত পিয়ার বাবা আশরাফুলকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। জানা যায়, আশরাফুল ও তার মেয়ে পিয়া মোটর সাইকেলে পাবনা হতে বাড়ি ফিরছিলেন। বাঁশেরবাদা বাজার এলাকায় তারা পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সাথে তাদের মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় উভয়কে হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত পিয়া মারা যান। ট্রাকটি আটক হলেও চালক পালিয়েছে। পিয়ার মরদেহ পাবনা মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ জানিয়েছে।
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) :শুক্রবার দুপুরে বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কে উল্লাপাড়ার বোয়ালিয়া বাজারে পিক-আপ ভ্যানকে ট্রাক চাপা দিলে সুজন দত্ত নামের এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। সুজন একটি বেসরকারি কোম্পানির বিক্রিয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছিলেন। তিনি উল্লাপাড়ার ঘোষগাঁতী মহল্লার শংকর দত্তের ছেলে।
মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) :ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় তাহেরুন্নেছা (৮০) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকালে ময়মনসিংহ উত্তরবঙ্গ সড়কে মনিরামবাড়ি এলাকায় তাহেরুন্নেছা সড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় উত্তরবঙ্গগামী বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি মাথায় আঘাত পান। স্থানীয়রা তাকে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন।
