প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্ক নেতাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দেশগুলোর প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রতি কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এ অঞ্চলের মানুষের উন্নতির জন্য রাজনৈতিক নেতাদের নেয়া সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করতে সার্ক দেশগুলোর সরকারি কর্মকর্তাদের, বিশেষ করে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ঢাকায় সফররত সার্কভুক্ত দেশের মন্ত্রিপরিষদ সচিবরা গতকাল সকালে সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এলে তিনি কথা বলেন।
২৬ ও ২৭ এপ্রিল, দুই দিনব্যাপী বৈঠক উপলক্ষে ৮ সার্ক দেশের মন্ত্রিপরিষদ সচিবগণ এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। রাজনীতিবিদরা সিদ্ধান্ত নেন; কিন্তু তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্ক দেশের প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তারা রাজনৈতিক নেতাদের নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করবেন বলেই আমার বিশ্বাস।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ অঞ্চলের অভিন্ন শত্রু দারিদ্র্যতাকে স্ট্যাম্প আউট করার কথাও প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদ, নারী ও শিশু পাচার এবং অস্ত্র চোরাচালানের বিরুদ্ধে কারো এককভাবে লড়াই করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। শেখ হাসিনা বলেন, সার্ক অঞ্চলের অভিন্ন শত্রু দারিদ্র্য সত্ত্বেও এ অঞ্চলেই বিশ্বের জনসংখ্যার এক বিশাল অংশের বসবাস। তাদের সমৃদ্ধির জন্য ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি ও বাজার অর্থনীতি আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের নিপীড়িত জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে যৌথভাবে পরিস্থিতির মোকাবেলা করা আমাদের প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সমৃদ্ধ এবং শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে সার্ককে গড়ে তুলতে হলে আঞ্চলিক সহযোগিতার কোন বিকল্প নেই। আর এ লক্ষ্যে সার্কভুক্ত দেশগুলোকে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে হবে। সার্ক মহাসচিব অর্জুন বাহাদুর থাপা ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান সিকদার অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকায় দুই দিনব্যাপী বৈঠক আয়োজনে সহায়তা করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সার্ক নেতাদের নেয়া সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নে তাদের সর্বোত্তম প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় : লেভি
ফরাসি সাংবাদিক বার্নার্ড হেনরি লেভি বলেছেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ তার জীবনের গৌরবোজ্জ্বল শ্রেষ্ঠ সময়।
ঢাকা সফররত হেনরি লেভি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাত্কালে এ কথা বলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান।
শাকিল বলেন, ১৯৭১ সালে বিশিষ্ট ফরাসি ঔপন্যাসিক আঁন্দে মালরোর আহ্বানে পশ্চিমা বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক ব্রিগেডের একজন সদস্য হিসেবে লেভি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু লেভিকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে চাকরি দেন। বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়ের উপর লেভির লেখা ‘লেস ইনডিজ রুজস’ বইটি এ বছর বাংলায় প্রকাশিত হয়েছে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করে লেভি বলেন, বাংলাদেশ অতীতে একটি ঔপনিবেশ ছিল। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে ৩ বছরে একে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে পুনর্গঠিত করেন, যা বিশ্বে নজিরবিহীন। তিনি বলেন, একজন বিপ্লবী নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আমাদের জাতির গৌরব। আমাদের একমাত্র দায়িত্ব হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত শিক্ষিত জাতি গঠন, এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা নিরলসভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
বাংলাদেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করে লেভি বলেন, আজ বিশ্ব দরবারে একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশের মডেল হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয় ঘটেছে। ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মিশেল ট্রিংকুইয়ার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
