চালকের আসনে নারী!

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৪, ২০:০২
আমার সিএনজি ছুটছে পাগলা ঘোড়ার মত। সামনের লাল প্রাইভেট কারের পেছনে গিয়ে সজোরে হর্ন দিচ্ছে সিএনজি। অথচ প্রাইভেট কারটি একটু প্রতিযোগিতা না করে সিএনজিকে সাইড দিয়ে দিলো। অনেকটা অবাক হয়ে গেলাম আমি। কারটিকে ক্রস করার সময় এক নজরে চালকের দিকে তাকিয়ে দেখলাম। প্রথমে যে পরিমাণ অবাক হয়েছি এখন তার কয়েকগুণ বেশি অবাক হলাম। কারণ চালকের আসনে বসা কোন পুরুষ নয় একজন নারী। একটু হতাশ না হয়ে রমণী আপন স্পীডে ও নির্দিষ্ট গতিতে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে। আর এই জায়গায় কোন পুরুষ হলে কখনো এই সিএনজিকে সাইড দিতো না উল্টো গতি বাড়িয়ে পাগলা ঘোড়ার মত ছুটে চলতো। আর এভাবে ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। সিএনজি চালককে বললাম, এত দ্রুত যাওয়ার প্রয়োজন কি? তিনি আমার কথা কোন পাত্তা না দিয়ে ছুটে চলছে। সেদিন সে নারী চালককে দেখে আসলেই গর্বে বুকটা ভরে উঠেছিলো। বিদেশে এই চিত্র নতুন নয়। তবে আমাদের দেশে এর চিত্র নতুন। আমাদের পুরুষশাসিত সমাজ চালকের আসনে নারী দেখলে হাসাহাসি করে। নানান জনে নানান কথা বলে। বাইরের দেশের নারীরা যখন এগিয়ে যাচ্ছে তাদের যোগ্যতা দিয়ে ঠিক সে সময়ে আমাদের দেশের নারীরা নানা অবহেলা ও পুরুষশাসিত সমাজের কু-দৃষ্টির কারণে দিন দিন পেছনে চলে যাচ্ছে। নারীরা যখনি বেরিয়ে আসতে চায় সকল বাধা-বিপত্তি ভেঙে তখনি আমাদের দেশের কিছু নারী বিদ্বেষী মানুষের নতুন নতুন লেকচারে নারীর হাত-পা ভেঙ্গে দেয়। গবেষকদের মতে, গাড়ির চালক হিসেবে পুরুষের চেয়ে নারী বেশি নিরাপদ। গাড়ির চালক হিসেবে নারী ও পুরুষের ব্যবধান আছে। সে ক্ষেত্রে নারী চালকরাই এগিয়ে। গাড়ি চালাতে গিয়ে পুরুষের চেয়ে নারী গতিসীমা লঙ্ঘন করেন কম। হঠাত্ ব্রেক করার প্রবণতাও কম তাদের মধ্যে। শুধু শখের বশে গাড়ি চালনা নয়, নারী এখন এ পেশায় যোগ দিচ্ছেন জীবিকা অর্জনের জন্য। চাকরি পেতেও সমস্যা হচ্ছে না। বাংলাদেশ রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) সর্বশেষ হিসাবে অনুযায়ী ২০১২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১ হাজার ৯৭৭ নারীচালক লাইসেন্স নিয়েছেন। এর মধ্যে অপেশাদার লাইসেন্স নিয়েছেন ১১ হাজার ৬৬৮ নারী। আর পেশাদার নারীচালক হিসাবে লাইসেন্স নিয়েছেন ৩০৯ জন। এছাড়া ২০১২ সাল থেকে সরকারিভাবেও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে কমপক্ষে ৬০০ নারী ড্রাইভার প্রতিবছর তৈরি করার। সময় এসেছে দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানোর। নারী চালকের আসনে বসলে ক্ষতির কিছু নেই। আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে সে মধ্যযুগীয় ধ্যান-ধারণা থেকে। পৃথিবীর সব কিছু যদি পরিবর্তন হতে পারে তবে নারী উন্নয়ন কেন নয়। আসুন নারীর এ পথচলাকে স্বাগত জানাই। তাদের এভাবে বেরিয়ে আসাই আমাদের দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আরো একটি মাধ্যম।