ট্যাটু আঁকিয়ে কেট

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৪, ২০:১০
ফ্যাশনপ্রিয় নারী-পুরুষের অনেকেই ট্যাটু কালচারে ঝুঁকেছেন। এটা অনেকের কাছে ক্রেজ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ট্যাটুর এই শিল্পকর্মগুলো করে দিচ্ছেন কিছু অল্পবয়সী তরুণ-তরুণী। তেমনই একজন ট্যাটু আঁকিয়ে হলেন কেট ভন ডি। ট্যাটুর এই কারিগরকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম গল্পের শুরুতেই একটু পেছনে ফিরে তাকানো যাক, ফিরে যাওয়া যাক ক্যাথেরিন ড্রাচেনবার্গের শৈশবে। তবে সব মহলে তার নামটি বিখ্যাত ট্যাটু আর্টিস্ট ‘কেট ভন ডি’ হিসেবে। ১৯৮২ সালের ৮ মার্চ, মেক্সিকোর নুইভো লিওন শহরে তার জন্ম। তার পরিবার বলতে শুধু ছিল বাবা-মা আর তার দুই ভাই-বোন। জন্ম মেক্সিকোতে হলেও তিনি কিন্তু অর্ধেক আর্জেন্টিনিয়ান এবং অর্ধেক মেক্সিকান। বাবা, রেনি ড্রাচেনবার্গ এবং মা, সিলভিয়া গ্যালিয়ানোর তিন সন্তানের মধ্যে বড় তিনি। ছোট বোন ক্যারোলিন এবং ভাই মাইকেলের সাথে তার সম্পর্ক একদম বন্ধুসুলভ। এমনকি তার ক্যারিয়ারের সাফল্যের সাথে অনেকটাই জড়িয়ে আছেন ছোট ভাই মাইকেল। ছোট্ট এই পরিবারটির মেক্সিকোতে খুব বেশিদিন থাকা হয়নি, তারা আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলসে চলে আসেন। মূলত ছেলেমেয়েদের ভালো পড়াশোনা করানোই এ পদক্ষেপের পেছনের মূল কারণ ছিল। তারা স্ব-পরিবারে ক্যালিফোর্নিয়ার কল্টন শহরে বসবাস শুরু করেন। সেখানেই শুরু হয় তার পড়াশোনার পর্ব। তবে শুধু পড়াশোনাই নয়, এর পাশাপাশি তিনি সংগীত চর্চাও শুরু করেন, ভর্তি হন পিয়ানো ক্লাসে। লস অ্যাঞ্জেলসের সংস্কৃতি তাকে আকর্ষণ করে। সেই সময় থেকেই প্রভাবিত হন ট্যাটু আর্ট দেখে। ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকি শুরু করেন। এই ব্যাপারে অবশ্য একটি রক ব্যান্ড তাকে ব্যাপক অনুপ্রেরণা যোগায়। তিনি এই ব্যান্ড সদস্যদের শরীরে আঁকা ট্যাটু দেখে খুব আগ্রহ বোধ করেন। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, এই কাজটিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেবেন তিনি। পরিবার থেকেও তেমন বাধা আসেনি, বরং তার ছোট ভাই এগিয়ে এলেন সাহায্য করতে। সেই সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর। পড়াশোনার পাশাপাশি তার আঁকার চর্চা চলতে থাকল। অপেক্ষায় থাকলেন সেই সুযোগটির, যা তাকে পৌঁছে দিতে পারে তার স্বপ্নের কাছাকাছি। ১৪ বছর বয়সে শুরু করলেন ট্যাটু আর্ট। এই ব্যাপারে তার ছোট ভাই খুব উত্সাহ যোগালো। মাইকেল ব্যবসার সমস্ত আয়োজন করল। এই সব নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে কেট সময় পেতেন না পড়াশোনা করার। ১৬ বছর বয়সে হঠাত্ করে ছেড়ে দিলেন স্কুল। সেখানেই তার একাডেমিক পড়াশোনার শেষ। এর পরে আর কখনও পেছনে ফিরে তাকাননি তিনি। সময়ের হাত ধরে ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন একজন আমেরিকান ট্যাটু আর্টিস্ট এবং টেলিভিশন পারসোনালিটি। আর্টের উপরে, ‘লা ইনক’ একটি রিয়েলিটি শো পরিচালনা করেন তিনি। ২০০৭ সালের ৭ আগস্ট তার এই শো শুরু হয়, বর্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় আর্ট শো হিসেবে পরিচিত। তবে এখানেই শেষ নয়, রিয়েলিটি শো তিনি আরও করেছেন। ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে নিউ ইয়র্ক টাইমসের তালিকায় আসেন সমাজের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে। বর্তমানে তিনি ঈগলসের ডেথ মেটালের সাথে কাজ করছেন। আরও মজার ব্যাপার হলো, এই ব্যান্ডের ‘হার্ট অন’ নামের একটা গান আছে, গানটি নাকি কেটকে ভেবেই লেখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঈগল ব্যান্ডের এক সদস্য, জেসি হোগিস। অনেকে পছন্দ নাও করতে পারেন, আবার অনেকেরই কাছে খুবই পছন্দের এই বডি আর্ট বিষয়টি। তবে, মজার ব্যাপার হলো, বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এই বডি আর্ট দিয়ে মানুষ স্টার বনে যাচ্ছেন। কেটের মতো অনেকেই আজ এই পেশায় জড়িত।