ভালোবাসার কৃষ্ণচূড়া

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৪, ২০:১১
প্রজন্মের চোখে ভালোবাসা-আবেগ প্রতিটি বিষয়ই খুবই সূক্ষ্মভাবে দৃষ্ট হয়। জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে আমরা হয়তো আমাদের অনুভূতিগুলো খুব সহজেই দুমরে মুচরে দিই কিন্তু মেধাবী প্রজন্ম বরাবরই তাদের নানা মেধাবী কার্যক্রমের মাধ্যমে তুলে ধরেন নিজের ভালোলাগা-ভালোবাসা, আবেগ-অনুভূতিগুলো। তেমনই একটি প্রদর্শনীতে ছেয়ে গেল মেধাবী আলোকচিত্রী জাঈদ ইসলামের আবেগের ছোঁয়া। এ নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন শহুরে জীবনের নাগরিক সুবিধার আয়োজন করতে, রাজধানীতে ইট, বালির দানবে ঢেকে গেছে আকাশ, তৈরি হয়েছে কংক্রিটের গালিচা। বিপরীতভাবে ধ্বংস হচ্ছে সবুজ, বিলীন হচ্ছে প্রকৃতি। এমন ধারণা থেকেই আলোকচিত্রী জাঈদ ইসলাম আয়োজন করেছেন ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে’। হাতিরঝিলের রাস্তার পাশেই মাত্র সাতটি ছবির উন্মুক্ত এই প্রদর্শনীতে ঝরছে যেন প্রকৃতির কান্না। প্রায় বছর ছয়েক আগের কথা। শুরু হয়েছে হাতিরঝিল প্রকল্পের কাজ। সেটি বাস্তবায়নের পর নগরবাসী একটি চমত্কার প্রকল্পের দেখা পেলেও আলোকচিত্রী জাঈদ ইসলাম হারিয়েছিলেন তার প্রিয় কৃষ্ণচূড়াগাছটি। হাতিরঝিল প্রকল্পের কাজের সময় গাছটি উপড়ে ফেলা হয়। সেই সময়ের উপড়ে ফেলা কৃষ্ণচূড়াগাছটি ও তার আশপাশের পরিবেশ নিয়ে ছবি তোলেন জাঈদ ইসলাম। সেসব আলোকচিত্র নিয়ে হাতিরঝিলের সেই জায়গাটায় হলো এক প্রদর্শনী। গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত চলেছে এই প্রদর্শনী। প্রদর্শনী নিয়ে জাঈদ ইসলাম বলেন, ‘রোজ সকালে জানালা খুলেই দেখা হতো গাছটির সঙ্গে। মাঝেমধ্যে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকতাম লাল-হলুদ রঙা ফুলগুলোর দিকে। একটা ভালোলাগা তৈরি হয় গাছটির প্রতি। একদিন দেখি গাছটি উপড়ে ফেলা হয়েছে। একটু পরে খেয়াল করলাম, কিছু ছোট ছেলে-মেয়ে গাছটির পড়ে থাকা ফুল, ডালপালা দেখছে। গাছ ও শিশুদের ছবি তুললাম। ছয় বছর পরে সেই ছেলে-মেয়েগুলোকে খুঁজে বের করি। ওরাই এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে।’