আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেছেন, জঙ্গি দমনে সরকার সফল হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জঙ্গি তত্পরতা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাংলাদেশের এ সাফল্যের বিষয়টি বহির্বিশ্বে এখন স্বীকৃত। তিনি বলেন, পুলিশ মাঠ পর্যায়ে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারলে সন্ত্রাসীরা ভয় পায়। সামপ্রতিক সময়ে পুলিশ তা করতে পারছে বলেই জঙ্গি দমন তত্পরতা সফল হয়েছে। তিনি পুলিশ সদস্যদেরকে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব দেশপ্রেম, নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সাথে পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রত্যাশিত সেবা দিতে ব্যর্থ হলে জনগণের কাছ থেকে আপনাদের ‘তালির বদলে গালি খেতে হবে।’
শনিবার চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়তলী থানার নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. নওশের। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি, মানবাধিকার কর্মী, নারী নেত্রী ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে আইজিপি আরো উল্লেখ করেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জামায়াত নেতা সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর গত ১৪ মাসে দেশজুড়ে তাণ্ডবের ঘটনায় ১৭ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। আহত হন ৩ হাজারের বেশি। মুক্তিযুদ্ধের পর এতোবড় আত্মত্যাগ করতে পুলিশকে এর আগে কখনো দেখা যায়নি।
পুলিশ প্রধান বলেন, সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বের চাইতেও এখন বড় সমস্যা হচ্ছে মাদক। মাদকের বিরুদ্ধে ‘নতুন ধরনের সংগ্রাম’ শুরুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, আগামী কিছুদিনের মধ্যেই জনগণ এ সংগ্রামের সুফল পেতে শুরু করবেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মাদক প্রতিরোধে পাড়ায়, মহল্লায় সমন্বয় কমিটি গঠনের মাধ্যমে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার এদিন বিকালে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইন্স প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত বার্ষিক পুলিশ সমাবেশ ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিতরণ করেন।
