পাঁচ বছরে সরকারি আইনি সহায়তা পেয়েছেন ৬৮ হাজার ব্যক্তি

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৪, ২২:২৭
গত ৫ বছরে ৬৭ হাজার ৯৩৭ জন ব্যক্তি সরকারি আইনি সহায়তা পেয়েছেন। এর মধ্যে ৩৪ হাজার ৫০০জন পুরুষ, ৩৩ হাজার ১৬৬ জন নারী এবং ২৭১ জন শিশু রয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে ৬৪টি জেলা কমিটির মাধ্যমে সরকারের আইনি সহায়তায় মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ২৩ হাজার ৮৯৫টি। এর মধ্যে ১৫ হাজার ৭৩৬টি ফৌজদারি এবং ৮ হাজার ১৫৯টি দেওয়ানি মামলা। জেল আপিল নিষ্পত্তি হয়েছে ১ হাজার ৪৭টি। এছাড়া গত বছর ৮২৯ জন শ্রমিক আইনি সহায়তা পেয়েছেন। জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে গতকাল রবিবার এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। এদিকে ‘গরিবের মামলার ভার, বহন করে সরকার’- এ স্লোগানকে সামনে রেখে আজ সোমবার জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকারি আইন সহায়তা কার্যক্রমের ব্যাপক অগ্রগতি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিরাট অবদান রেখেছে। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার ও আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে সরকারি আইন সহায়তা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে। এছাড়া আজ সকাল সাড়ে ১০টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে লিগ্যাল এইড মেলাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া সকাল সাড়ে ৮টায় আইন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের অংশগ্রহণে সচিবালয় ও জাতীয় প্রেসক্লাব সংলগ্ন এলাকায় একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, দেশের ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা আদালতে ২৪ লাখ মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। আদালতের মামলাজট কমাতে সরকারের আইনগত সহায়তা কর্মসূচি সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি আইনি সেবা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায় জনগণের ন্যায়বিচারে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। জনগণের জন্য সরকারি খরচে আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করাকে নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং জনগণের অধিকার বলেই সরকার বিশ্বাস করে। বর্তমান সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাসী বলেই জনগণের এ অধিকার প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ সময় আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক ও জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার পরিচালক সৈয়দ আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এদিকে নবনিযুক্ত সহকারী জজদের জন্য আয়োজিত ২৯তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেছেন, মানুষ নিরূপায় না হলে আদালতের দ্বারস্থ হয় না। আদালতই বিচারপ্রার্থী জনগণের শেষ আশ্রয়স্থল। বিচারপ্রার্থী জনগণ যাতে স্বল্প খরচে স্বল্প সময়ে ন্যায়বিচার পায় সে ব্যাপারে বিচারকদের সচেষ্ট থাকতে হবে। তিনি বলেন, কার্যকরভাবে আইন প্রয়োগ করে বিচারের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করে অপরাধের প্রতিকার করা বিচারকদের দায়িত্ব। কারণ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হলে অপরাধীদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পায়। তবে বিচার করতে গিয়ে কোন পক্ষ যাতে অবিচারের শিকার না হন, কোনোভাবে অহেতুক হয়রানি বা ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেদিকে খেয়াল রাখতে আইনমন্ত্রী বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান। ঢাকার বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মুসা খালেদ, পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ওসমান হায়দার বক্তব্য রাখেন।