রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন কলেজের ছাত্র মীর রেদওয়ান আহমেদ রাজীবকে অপহরণকারী চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। এদের মধ্যে রাজীবের কথিত প্রেমিকাও রয়েছেন। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে অপহূত রাজীবের আপন চাচাতো ভাই মীর নোমান সালেহীন তরুণও রয়েছেন। গত শনিবার রাতে রাজধানী ও টাঙ্গাইলের বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা ও একটি মোটর সাইকেল জব্দ করা হয়েছে। রবিবার র্যাব সদর দফতরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে র্যাবের মিডিয়া ও আইন শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার হাবিবুর রহমান এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, প্রেমের ফাঁদে ফেলে গত ৮ এপ্রিল হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের গোল চত্ব্বর থেকে মাইলস্টোন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র রাজীবকে অপহরণ করা হয়। ছেলের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে গত ১১ এপ্রিল রাজীবের বাবা অপহরণকারীদের ২৪ লাখ টাকা দেন। পরে অপহরণকারীরা রাজীবকে ছেড়ে দেয়। রাজীব উদ্ধার হওয়ার পরও অপহরণকারীদের গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখে র্যাব। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১ এর সদস্যরা রাজধানীর ডেমরার সারুলিয়া বাজার এলাকা থেকে অপহরণের মূল হোতা মাসুদ রানা ওরফে মোমিন ও তার সহযোগী রাজীব ওরফে আকাশকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর থানার নাগরপুর ও এর আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে মীর নোমান সালেহীন তরুণ, মোফাজ্জল হোসেন বাবু, এরশাদ আলী, আব্দুর রাজ্জাক, লেবু মিয়া, ওসমান গনি ও সুমাইয়া শারমিন মোনামীকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের দাবি, গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, নগদ অর্থের প্রয়োজনে মাসুদ রানা, তরুণ, মোমিন, রাজিব ও বাবু রাজীবকে অপহরণের পরিকল্পনা করে। তাদের ধারণা ছিল, রাজীবের বাবা অনেক সম্পদের মালিক। তাই রাজীবকে অপহরণ করলে বিপুল পরিমাণ অর্থ মুক্তিপণ আদায় করা যাবে। এরপর থেকে তারা রাজীবকে অপহরণের বিষয়ে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মাসুদ তার বান্ধবী মোনামীকে দিয়ে রাজীবের জন্য প্রেমের ফাঁদ পাতে।
গ্রেফতারকৃতরা র্যাবকে আরও জানিয়েছে, প্রেমের এক পর্যায়ে অপহরণের ৩/৪ দিন আগে আশুলিয়ার বেড়িবাঁধ এলাকায় মোনামী রাজিবকে দেখা করতে বলে। ওই দিন পুলিশের কড়া নজরদারি থাকায় রাজীবকে অপহরণ করতে ব্যর্থ হয় তারা। পরে মোনামী আবারও রাজীবকে শাহজালাল বিমানবন্দরে দেখা করতে বলে। মোনামীর সঙ্গে দেখা করতে রাজীব বিমানবন্দরে আসে। এ সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী মাসুদ, বাবু, রুহুল ও এরশাদ একটি মাইক্রোবাসে তুলে টাঙ্গাইলের ভুয়াপুরের নলিন বাজারে নিয়ে যায়। তবে ছেলের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে রাজীবের বাবা মুক্তিপণের টাকা দেন।
