নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে এই আশঙ্কায় উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন করে অর্থছাড় বন্ধ করা হয়েছে। এতে করে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তবে খুব জরুরি হলে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি সাপেক্ষে অর্থছাড়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। বিশেষত: পুরনো অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই সুবিধা রাখা হয়েছে।
সূত্র জানায়, নির্বাচনে প্রভাব ছাড়াও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি রোধেও এটি সহায়ক পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে। এমনিতেই নির্বাচনে টাকা ব্যয়ের আধিক্য থাকবে এবং ব্যয় সীমা নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে যেতে পারে বলেও শঙ্কা করা হচ্ছে। তাতে বছর শেষে মূল্যস্ফীতি প্রাক্কলিত হারের বেশি হতে পারে। তবে নতুন নির্দেশনার কারণে চলমান উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন আরো পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কোনো কোনো সূত্র বলেছে, নির্বাচনকেন্দ্রিক উত্সবের আমেজে এমনিতেই উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে কিছুটা স্থবিরতা থাকবে। এ অবস্থায় কোনো উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন করে বরাদ্দ না দেওয়ার নির্দেশনা এসেছে।
নির্বাচন কমিশনের এ-সংক্রান্ত চিঠি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোয় পাঠানো হয়েছে। নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশের আগ পর্যন্ত কোনো ধরনের অনুদান ঘোষণা বা বরাদ্দ দেওয়া ও অর্থছাড় না করার নির্দেশনা দিয়ে ইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০০৮ এর বিধি ৩ অনুসারে নির্বাচন পূর্ব সময়ে কোনো সরকারি আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব বা উন্নয়ন তহবিলভুক্ত কোনো প্রকল্পের অনুমোদন, ঘোষণা বা ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন কিংবা ফলক উন্মোচন করা যাবে না। তাছাড়া, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় অনুদান/ত্রাণ বিতরণ সংক্রান্ত কার্যক্রম বা উন্নয়নমূলক কোনো প্রকল্প অনুমোদন না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে ইতোপূর্বে অনুমোদিত কোনো প্রকল্পে অর্থ অবমুক্ত বা প্রদান করা নিতান্ত আবশ্যক হলে জরুরি ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের সম্মতি গ্রহণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের ওপর নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা প্রবৃদ্ধির ওপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারকরা শঙ্কায় রয়েছেন। গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ফিসক্যাল কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল ও সম্পদ কমিটির সভায় এ বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বৈঠকের একটি সূত্র জানায়, ব্যাংকে আমদানির ঋণ পত্র (এলসি) খোলার হার চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ কমে গেছে। এর কারণ হিসেবে বৈঠকে বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন সময় হওয়ায় অনেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। অনেকটা অনিশ্চয়তা নিয়ে ব্যবসায়ীরা নতুন করে আর এলসি খুলতে চাচ্ছে না। এমন কি মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি খোলার হারও কমেছে আশঙ্কাজনকভাবে। এছাড়া দেশে চলতি হিসেবে ঘাটতির কারণে দেশের পণ্যের মূল্য সূচকের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন তার নির্দেশনায় উল্লেখ করেছে, কোনো সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সরকারি বা আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের তহবিল হতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কোনো প্রকার অনুদান ঘোষণা বা বরাদ্দ প্রদান বা অর্থ অবমুক্ত করতে পারবে না। এ বিধিমালার বিধান লংঘন দণ্ডনীয় অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উল্লিখিত আচরণ বিধিমালার বিধি ১৮ অনুযায়ী দণ্ডনীয় হবেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখার লক্ষ্যে নির্বাচন সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় কোনো প্রার্থী সিটি করপোরেশন পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পত্তি তথা অফিস, যানবাহন, মোবাইল, ফোন, ওয়াকিটকি বা অন্য কোন সুযোগ-সুবিধা নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করতে পারবে না মর্মে নির্বাচন কমিশন নির্দেশনা প্রদান করেছে।
