দুই সেতুর দুয়ার খুলছে আজ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক যানজটমুক্ত হচ্ছে!

আপডেট : ২৫ মে ২০১৯, ০৩:১৯

দেশের অর্থনীতির লাইফলাইনখ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী এবং দ্বিতীয় মেঘনা সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু হচ্ছে আজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতু দুটি উদ্বোধন করবেন। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সড়ক পথে চলাচলে এক নবদিগন্তের সূচনা হতে চলেছে। চিরচেনা যানজটের ভোগান্তি দূর হবে। এতে দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন অনেক সহজতর ও সাশ্রয়ী হবে।

সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা, গাড়ির চালক ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ফোরলেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে দৈনিক অন্তত ৩০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। এসব যানবাহন এসে আগে একলেনে পুরনো মেঘনা-গোমতী, মেঘনা ও কাঁচপুর সেতুতে উঠতো। এতে যানবাহনের চাপ বেড়ে গিয়ে ধীরগতির কারণে নানা উত্সবে ও সরকারি ছুটির দিনে যানজটে আটকা পড়ে ভোগান্তি পোহাতে হতো যাত্রী ও চালকদের। কিন্তু এবার ঈদের আগে সেতুগুলো খুলে দেওয়ার পর আর কোনো যানজট থাকবে না। এতে মানুষের সময়, খরচ ও ভোগান্তি কমবে এবং ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান জানান, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের মধ্যে এই সেতু দুটি অন্তর্ভুক্ত। মূলত ৫টি উদ্দেশকে সামনে রেখে এসব প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এগুলো হচ্ছে, রাজধানী ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রামের নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করা, ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে ক্রমবর্ধমান যানবাহনের সংকুলান করা, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগকে উত্সাহিত করার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাধন করা, প্রকল্প এলাকায় আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ড উন্নত করা এবং সকলের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

দ্বিতীয় মেঘনা এবং দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতুর প্রকল্প পরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানান, সেতু দুটি নির্মাণ করেছে যৌথভাবে জাপানের ওবায়েশি করপোরেশন, সিমিজু করপোরেশন ও জেএফই ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ২০২০ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এর সাত মাস আগেই নতুন সেতু নির্মাণ ও পুরনো বিদ্যমান সেতুর পুনর্বাসন কাজ শেষ হয়েছে। এতে সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা।

তিনি আরও জানান, কুমিল্লার দাউদকান্দির দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতুর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৪১০ মিটার, অর্থাত্ প্রায় দেড় কিলোমিটার। এটি নির্মাণে ১ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় মেঘনা সেতুর দৈর্ঘ্য ৯৫০ মিটার, অর্থাত্ প্রায় ১ কিলোমিটার। এই সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৭৫০ কোটি টাকা। উভয় সেতু চারলেন বিশিষ্ট এবং ১৭.৭৫ মিটার প্রস্থের সেতুতে দেড় মিটার ফুটপাত রাখা হয়েছে। এই দুই সেতুর নির্মাণকাজ তিন বছর পাঁচ মাসে সম্পন্ন করা হয়েছে।

কুমিল্লা নাগরিক ফোরামের সভাপতি কামরুল আহসান বাবুল জানান, নবনির্মিত সেতু এই মহাসড়কে যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও স্বস্তির করবে।

সেতুতে ইটিসি সেবা: দেশে প্রথমবারের মতো গত ৩০ এপ্রিল মেঘনা সেতু টোল প্লাজায় উইন্ডশিল্ড বেইজড ফার্স্ট ট্র্যাক ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) উদ্বোধন করা হয়। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এতে টোল দিতে যানবাহনগুলোকে টোল প্লাজায় থামতে হবে না, প্রয়োজন হবে না নগদ অর্থ দেওয়ার। যানবাহন টোল প্লাজা পার হওয়ার সময় ব্যাংক হিসাব থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত টোল কাটা হবে। এতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন হবে সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ী। তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতুর টোল প্লাজায় একটি করে লেনে এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে।