অস্ত্র ও বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেফতার ২

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৪৫
হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর রেলস্টেশনে সুবর্ণ এক্সপ্রেসে তল্লাশি চালিয়ে অত্যাধুনিক একে-২২ রাইফেলসহ বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে জিআরপি (গভর্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশ)। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিমানবন্দর রেলস্টেশনে ট্রেনটি পৌঁছলে একটি বগি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন নুরুল ইসলাম ও শামীম ওরফে আব্দুল্লাহ। একে-২২ রাইফেল ছাড়াও সেখান থেকে দুটি ম্যাগাজিন ও আট রাউন্ড গুলি, তিনটি বিশেষ ধরনের চাকু এবং বোমা তৈরির ১০টি পাওয়ার জেল, ১০টি ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়। কমলাপুর রেলওয়ে থানার ওসি আব্দুল মজিদ জানান, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে অবৈধ অস্ত্র ও বোমা ঢাকায় নিয়ে আসা হচ্ছে-এমন সংবাদের ভিত্তিতে সকাল থেকে জিআরপি তত্পর ছিল। বেলা সাড়ে ১২টা থেকে পৌনে একটার মধ্যে ট্রেনটি বিমানবন্দর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্লাটফরমে পৌঁছলে ট্রেনটিতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ট্রেনের শোভন চেয়ার কোচ শ্রেণির একটি বগির ৩৮ ও ৩৯ নম্বর সিটের দুই যাত্রী নুরুল ইসলাম ও শামীমের ওপর সন্দেহ হয়। এর আগে ঐ বগির কয়েকজন যাত্রীর লাগেজে তল্লাশি চালানো হয়। দুই যাত্রীর কাছে থাকা লাগেজে তল্লাশি চালালে সেখান থেকে একটি একে-২২ রাইফেল, দুটি ম্যাগাজিন ও আট রাউন্ড গুলি, তিনটি বিশেষ ধরনের চাকু এবং বোমা তৈরির ১০টি পাওয়ার জেল, ১০টি ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়। কমলাপুর জিআরপি থানার ওসি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত নুরুল ইসলামের পিতার নাম আব্দুর রহমান। তার বাড়ি পঞ্চগড়ে। সে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। শামীমের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। তারা চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদগুলো সংগ্রহ করে। সুবর্ণ ট্রেনের মতো একটি বিলাসবহুল ট্রেন থেকে এ ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদের চালান উদ্ধারের পর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ব্যাপক নিরাপত্তা নেয়া হয়। ঘটনার পর কমলাপুর রেলস্টেশনে ছুটে আসেন রেল মন্ত্রী মুজিবুল হক। রেলস্টেশনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, সাঈদীর সম্ভাব্য রায়কে কেন্দ্র করে নাশকতার জন্য তারা অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।