মনপুরার মেঘনায় লোনা পানির প্রভাব আর প্রচণ্ড তাপদাহে অতিষ্ঠ হয়ে দলে দলে বনের মায়াবি হরিণ মিঠাপানির খোঁজে লোকালয়ে ছুটে আসতে শুরু করেছে। পথ হারিয়ে হরিণগুলো লোকালয়ে চলে এসে বেশিরভাগই বেহাত হয়ে যাচ্ছে। বনবিভাগ লোকালয়ে আসা হরিণগুলোকে উদ্ধার করে বিভিন্ন বনে অবমুক্ত করেছে বলে জানায়।
বিগত বছরগুলোতে এই সময়ে বনবিভাগ লোকালয়ে হরিণ আসার ব্যাপারে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা করে জনসাধারণকে সচেতন করলেও এ বছর তেমন কোন প্রচারণা দেখা যায়নি। ফলে মিঠাপানির খোঁজে আসা হরিণগুলো লোকালয়ে কোন বাড়িতে আশ্রয় নিলে বা মারা গেলে আইনি জটিলতা বা বিপদ আশংকায় কেউ বনবিভাগের লোকজনকে খবর দিচ্ছে না। দুর্বল এসব হরিণ চিকিত্সা ও মিঠাপানির অভাবে অনেক সময় মারা যাচ্ছে।
আলমনগর ছাড়াও প্রত্যেকটি চরে রয়েছে হরিণের বিচরণ। বনবিভাগের আওতাধীন এসব চরে ১০ সহস াধিক হরিণ রয়েছে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন। হরিণের বিচরণক্ষেত্র চরগুলো হলোঃ কলাতলীর চর, ডালচর, জাগলার চর, বদনার চর, সোনার চর, চর শামসুদ্দিন, চর জামশেদ, চর মজুমদার (জংলার খাল), চর পিয়াল, চর পাতালিয়া এবং চরনিজাম। মূল ভূ-খণ্ডের আলমনগরেই রয়েছে ৫ শতাধিক হরিণ। উল্লিখিত চরগুলো থেকে প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে আর মিঠাপানির খোঁজে প্রতিদিন হরিণ লোকালয়ে আসছে। হাতিয়া উপজেলার নিঝুম দ্বীপ থেকেও বিশাল মেঘনা পাড়ি দিয়ে মিঠাপানির খোঁজে আসছে বহু হরিণ। এরইমধ্যে উপজেলার রামনেওয়াজ, কাউয়ারটেক, ফৈজুদ্দিনের ফকিরের হাট, ভুঁইয়ার হাট, হাজীর হাট, সোনার চর, চর যতিন, সাকুচিয়ার রহমানপুর, জনতা বাজারসহ বেশকিছু জায়গা থেকে হরিণ উদ্ধার করে স্থানীয় চর মজুমদার (লালচর), পাতালিয়া, মাঝের ঘাটে অবমুক্ত করেছে বলে দাবি করছে বনবিভাগ।
এবছর বনবিভাগ কর্তৃক কোন ধরনের প্রচারণা না থাকায় লোকালয়ে ছুটে আসা হরিণগুলোকে স্থানীয় ছোট ছেলেমেয়েরা ধরার জন্য পিছনে পিছনে দৌড়ায়। এতে করে হরিণগুলো প্রচণ্ড রোদ্রের তাপে ও পানির পিপাশায় দুর্বল হয়ে পড়ছে। এ পর্যন্ত বহু হরিণ লোকালয়ে আসার খবর পাওয়া গেলেও ঠিক কয়টি হরিণ এ পর্যন্ত অবমুক্ত করা হয়েছে তা অজানা রয়ে গেছে। স্থানীয়দের সাথে আলাপ করলে তারা বলেন, প্রতি বছর গ্রীষ্মের এই সময়ে বনে পানির অভাব হয়। নদীর পানিও লবণাক্ত। ফলে হরিণগুলো বাঁচার তাগিদে মিঠাপানির খোঁজে লোকালয়ে ছুটে আসছে। মনপুরা বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম বলেন, মিঠাপানির খোঁজে লোকালয়ে আসা ১০টি হরিণ উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করেছি। আমরা বনগুলোর মধ্যে মিঠাপানি সংরক্ষণের জন্য গভীর পুকুর নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
