বৃষ্টি নেই। বৈশাখের বেশ ক’দিন গেলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী বৃষ্টির দেখা মিলছে না। উষ্ণতা আর তাপদাহ বেড়েই চলেছে। নদ-নদী শুকিয়ে বালুময়,জলাশয়গুলোরও প্রায় একই অবস্থা।
ইতোমধ্যে শহরাঞ্চলে সুপেয় পানি পাবার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে দ্রুত। ফলে নলকূপে পানি উঠছে না। এমন অবস্থা বিরাজিত থাকলে ফসল ও ফলে পোকা মাকড়ের আক্রমণ বাড়বে, ফলন কম হবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। ডায়রিয়া, চর্মরোগ, হিটস্ট্রোক দেখা দিচ্ছে। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা, নদীর তলদেশ ভরে ওঠা, নদীর গতিপথ বন্ধ করা, নির্বিচারে বৃক্ষ কর্তন ও বন ধ্বংস করা, জলাধারগুলো ক্রমে নষ্ট করে ফেলা, নদী দখল, খাল দখল ও ভরাটকরণ, যত্রতত্র ইটভাটা স্থাপন ইত্যাদি ইত্যাদি এ উষ্ণতার জন্য দায়ী নয় কি? আশংকা করা হচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে একদিকে দক্ষিণ অঞ্চলের কিছু অংশ লোনা পানিতে ডুবে যাবে এবং উত্তরাঞ্চল মরুময় হয়ে উঠবে। লাখ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হবে। উষ্ণতা বেড়ে যেতে থাকলে রোগবালাইও বেড়ে যাবে।
এ বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা দরকার। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবেলায় বিশ্বব্যাপী আন্দোলন চলছে, দেশে বৃক্ষরোপণ হচ্ছে, অভিন্ন নদ-নদীর পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে আলোচনা চলছে। কিন্তু এও যে লক্ষ করছি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বৃক্ষরোপণ করছি কিন্তু তা কি আমাদের দেশীয় আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? নদ-নদী খনন (ড্রেজিং) করে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার সার্বিক প্রস্তুতি কি নিচ্ছি? খাল, জলাশয় ভরাটকরণের বিরুদ্ধে কি দাঁড়াতে পারছি? অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে কতদূর এগোতে পারছি? বন, বৃক্ষ নির্বিচারে কাটা কি বন্ধ করতে পারছি? যা পরিবেশ দূষণ করে অর্থাত্ যত্রতত্র ইটভাটা স্থাপন কি বন্ধ করতে পেরেছি?
সরকারকে আরো ভাবতে হবে। সরকারের সঙ্গে সবাইকেই ভাবতে হবে। সহযোগিতা করতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে। সচেতনতা বাড়াতে হবে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা করতে হবে। আসুন কিছু বিষয়ে সবাই একমত হই আমাদের প্রয়োজনেই—১. বন বা বৃক্ষ আর কাটবো না। মনে রাখা দরকার বৃক্ষ যত লাগাবো বৃষ্টি ঘটার ক্ষেত্রে তত সহযোগিতা করবো। ২. দেশীয় বৃক্ষ লাগাবো। ৩. নদ-নদী, খাল, জলাশয় দখল করবো না। বর্জ্য ফেলে এসব দূষিত করবো না। ৪. ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় করবো না। ৫. যত্রতত্র ইটভাটা স্থাপন করবো না। যদিও করতে হয় অবশ্যই নিয়ম মেনে পরিবেশবান্ধব হিসেবে স্থাপন করবো।
যাঁরা নদী দখল, খাল দখল, বৃক্ষ কর্তন, বন ধ্বংস, পরিবেশসম্মত নয় এমন ইটভাটা স্থাপন করছেন হয়তো ভাবছেন এসব করে নিজে উন্নতি করে ভালো থাকবেন। অন্যদের যা হয় হোক। ভেবে দেখেছেন কি নগর পুড়লে দেবালয়ও এড়ায় না? আসুন সময় থাকতে ভাবি।
গাইবান্ধা
