স্বল্পসংখ্যক মেধাবী ব্যক্তি এ দেশে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে স্থানীয়ভাবে কন্সালট্যান্সি বা পরামর্শক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তাঁরা অত্যন্ত স্বল্পমেয়াদি এবং সম্পূর্ণ অস্থায়ীভিত্তিতে চুক্তিভিত্তিক চাকরিতে নিযুক্ত হয়ে থাকেন। চাকরির শর্তাবলিও এতোই কঠোর যে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ মামুলি কারণেই তাদের চাকরি থেকে যে কোনো সময় বিদায় করে দিতে পারেন। পেটের দায়ে এক অনিশ্চিত আর অরক্ষিত পেশা তাঁদের বরণ করতে হয়। চাকরির আর্থিক সুবিধা বলতে একমাত্র নির্দিষ্ট সম্মানী (পারিশ্রমিক)। পেনশন, গ্রাচুইটি, ইনক্রিমেন্ট, উত্সব বোনাস, মহার্ঘভাতা, চুক্তির মেয়াদান্তে আর্থিক সুবিধাদি ইত্যাদির কোনো কিছুই তাঁরা পান না। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো এঁদের প্রতি মাসে সম্মানীর ১৫% ভ্যাট হিসেবে কর্তন করা হয়, যা নিদারুণ বেদনাদায়ক। উপরন্তু বছরান্তে যথারীতি ব্যক্তি-কর (১০%) পরিশোধ করতে হয়। এতোসব কর্তনের পর নীট আয় বর্তমান বাজার দরে একেবারেই অপ্রতুল। এছাড়া সম্প্রতি ঘোষিত ২০% মহার্ঘভাতা থেকেও তারা বঞ্চিত। অথচ সরকারের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এমনকি বিভিন্ন প্রকল্পে আউট সোর্সিং থেকে নিয়োগকৃত লোকদের বেলায়ও ঐ ভাতা প্রযোজ্য। শুধু সরকারি প্রকল্পের পরামর্শকদেরকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে সব রকমের সরকারি আর্থিক সুযোগ-সুবিধা থেকে। মনে রাখতে হবে, জাতীয় উন্নয়নে সরকারের সমস্ত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তাদের অবদান কম নয়। তাই সম্পূর্ণ অস্থায়ী ও স্বল্পমেয়াদি এ জাতীয় পেশায় নিয়োজিত পেশাজীবীদের দিকে দৃষ্টিদান জরুরি। এক্ষেত্রে ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার ও ঘোষিত ২০% মহার্ঘভাতা প্রদানের বিষয়টি ভেবে দেখা যেতে পারে।
ঢাকা
