রূপগঞ্জে গৃহবধূকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০৪
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাতের মেহেদী না মুছতেই যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ শেফালী আক্তারকে (২২) মধ্যযুগীয় কায়দায় স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, তার হাত-পা ও মুখে গামছা বেঁধে সারা শরীরের চামড়া ব্লেড দিয়ে কাটা হয়েছে। নষ্ট করা দেয়া হয়েছে গৃহবধূর একটি চোখ। পরে হাত ও পায়ের বাঁধন খুলে দিয়ে ঘরের মেঝেতে ফেলে রাখা হয় প্রায় ১০ ঘন্টা। বাড়ির লোকজন ঘুমিয়ে পড়লে গৃহবধূ ঘর থেকে বেরিয়ে পাশে তার নানার বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে বাপের বাড়ি পশিবরুয়ার টেকে এলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শেফালী আক্তারকে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে গত রবিবার রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশি গ্রামে। শেফালী আক্তারের পরিবার জানান, ৫ বছর প্রেম করে ২০১১ সালে পশি গ্রামের সামছুল হক ওরফে ডাকাত সামছুর ছেলে সোহেল মিয়ার সঙ্গে শেফালী আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর বাড়ির লোকজন তাকে নির্যাতন শুরু করে। ২০১৩ সালে সোহেল খিলক্ষেত এলাকার নরিন আক্তার জিসান (২৪) নামে আরেক মেয়েকে বিয়ে করে বাড়ি নিয়ে আসে। এর পর শেফালীর উপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ২০১৩ সালের জুলাই মাসে সোহেলকে তালাক দেয় শেফালী। যৌতুকের অব্যাহত হুমকির কারণে দ্বিতীয় স্ত্রী নরিন আক্তার জিসানও অন্য আরেক ছেলের হাত ধরে পালিয়ে যান। এদিকে এলাকার লোকজনের সহযোগিতায় ১০ লাখ টাকা দেনমোহর দিয়ে গত শুক্রবার সোহেল মিয়া আবারো শেফালী আক্তারকে বিয়ে করে ঘরে তুলেন। এরপর শেফালীর উপর চলে নির্যাতন। রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. গুলজার হোসেন জানান, গৃহবধূ শেফালী আক্তারের উপর অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না। তার উন্নত চিকিত্সা প্রয়োজন। রূপগঞ্জ থানার ওসি আসাদুজ্জামান মীর জানান, গৃহবধূ শেফালী আক্তার নিজেই বাদী হয়ে তার স্বামী সোহেল মিয়া (২৭), সোহেলের বন্ধু রাশেদ মিয়া (২৬), শ্বশুর সামছুল হক ওরফে ডাকাত সামছু (৬৫) ও শাশুড়ি গোল আক্তারকে (৫৫) আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। আসামিরা পলাতক রয়েছেন।