ইসির গাড়ি ক্রয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আপত্তি

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১৩
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চাহিদানুযায়ী জীপ গাড়ি ক্রয়ে আপত্তি জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। কমিশন বলছে, নির্বাচনী কাজের সুবিধার্থে মাঠ কর্মকর্তাদের জীপ গাড়িই উপযোগী বাহন। এ গাড়ীর বদলে অন্যকোন বাহন দেয়া হলে ব্যাঘাত ঘটবে নির্বাচনী কাজে। একই সঙ্গে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় চলাচলের ক্ষেত্রে বিঘ্ন সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিমত, সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা জীপ গাড়ি ব্যবহার করেন। একই গাড়ি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা পেলে বৈষম্য দেখা দিবে। ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইত্তেফাককে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইসি সূত্রে জানা গেছে, দুইটি গাড়ি কমিশনারদের জন্য, একটি এনআইডির সিষ্টেম ম্যানেজারের জন্য, সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য তিনটি মিনিবাস এবং জেলা নির্বাচন অফিসের জন্য ৪৫ জীপসহ ৫১ গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত রয়েছে। এর জন্য ইসির তহবিলে বরাদ্দ আছে ৮ কোটি টাকা। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের সভাপতিত্বে তার কক্ষে ইসির কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আন্তঃ-মন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় কমিশনের গাড়ি কেনায় মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৪৫ জেলা নির্বাচন অফিসের জন্য জীপ কেনায় আপত্তি জানিয়েছে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা। এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে কমিশনে একটি বৈঠক হয়েছিল। এ বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও জন-প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি অংশ নেন। কিন্তু ওই বৈঠকে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য জীপ গাড়ি কেনায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়নি। পরবর্তীতে জন-প্রশাসন মন্ত্রণালয়ও ৫১ গাড়ি কেনায় আপত্তি করেনি। গাড়ি ক্রয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আপত্তির পর কমিশনের অতিরিক্ত সচিবের সঙ্গে এ নিয়ে দেনদরবারও করেছেন কর্মকর্তারা। কয়েকজন উপ-সচিব, সিনিয়র সহকারি সচিব ও সহকারি সচিব জানান, শেষ মুহূর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জীপ ক্রয়ে আপত্তি কেন তা বুঝতে পারছি না। এর আগে ইসির ১০ আঞ্চলিক অফিস ও ১৯ জেলা নির্বাচন অফিসের জন্য এই জীপ কেনা হয়েছে। এখন ৪৫ জেলা নির্বাচন অফিসের জন্য গাড়ি কেনাতে কী অসুবিধা তা বোধগম্য নয়।