ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ভূমি ব্যবস্থাপনায় আসবে যুগান্তকারী পরিবর্তন। ভূমি ডিজিটালাইজেশন হলে ভূমি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নসহ জাল-জালিয়াতি ও হয়রানি বহুলাংশে বন্ধ হয়ে যাবে। ভূমিতে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার ভূমি সংক্রান্ত তথ্যের ডিজিটালকরণ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, দেশের সার্বিক উত্পাদনশীলতায় ভূমি ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সুশাসনের অভাব, সেকেলের ভূমি ব্যবস্থাপনা, সর্বোপরি জনসংখ্যা বৃদ্ধি ভূমির উপর বিশাল চাপ অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া ভূমি রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতিতে এখনো রয়ে গেছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। বর্তমান সরকার ভূমি ব্যবস্থা ডিজিটালকরণের মাধ্যমে ভূমি ব্যবস্থাপনার ব্যাপক উন্নয়ন সাধনে বদ্ধপরিকর। তারা বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ ও রেকর্ড হলে ভূমির উপর সুবিধা বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, খাস জমি চিহ্নিত হবে, খাস জমিতে ভূমিহীনদের অধিকার বৃদ্ধি পাবে। ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ভূমি ব্যবস্থাপনায় আসবে যুগান্তকারী পরিবর্তন।
ভূমির মালিকানা স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে তুলনামূলকভাবে হ্রাস পাবে মামলা-মোকদ্দমা। বন্ধ হবে জমি নিয়ে জালিয়াতি ও মালিকানা নিয়ে বিরোধ।
বক্তারা বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ভূমিতে টেকসই অধিকার প্রকল্পটি পাইলট আকারে শহর, গ্রাম ও উপকূলবর্তী এলাকা যেমন, জামালপুর সদর উপজেলা, রাজশাহীর মোহনপুর ও বরগুনার আমতলী উপজেলায় এই পদ্ধতি কার্যকর করতে সরকার ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ২০১৩ থেকে ২০১৫ মোট ৩ বছরের জন্য এই পাইলট প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ৩টি উপজেলার মোট সুবিধাভোগী ২ লাখ ৫৫ হাজার ৪৫৫ টি পরিবার।
প্রকল্প কাজে সহায়তা করবে ভূমি মন্ত্রণালয়, ভূমি সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর, স্থানীয় ভূমি অফিস, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন আয়োজিত দি ডেইলি স্টার ভবনের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হল রুমে গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ভূমি মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, বিশেষ অতিথি জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুল মান্নান, অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহিন আনাম, উত্তরণের পরিচালক শহিদুল ইসলাম, কেয়ার বাংলাদেশের প্রধান মন্জুর মোরশেদ প্রমুখ।
