‘৩শ’ টাকার বেতনে (সম্মানি) চাকরি শুরু। কেটে গেছে ২৮ বছর। সর্বসাকূল্যে বেতন (সম্মানি) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৬৫ টাকা। সেই টাকায় সংসার চালানো খুবই কষ্টের। ব্রিটিশ আমল থেকেই অবিভাগীয় কর্মচারীর ক্যাটাগরিতে বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। অথচ একই পদে বিভাগীয় কর্মচারীরা সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। সবার কাজ একই, কিন্তু মজুরির বেলায় কেন বৈষম্য থাকবে? দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করছি।’
কথাগুলো বলছিলেন যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর ডাকঘরের পোস্টমাস্টার আবদুর রউফ। শুধু তিনি নন, তার মতো যশোর জেলায় ৫৫৩ জন কর্মচারী রয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করলেও বেতন বৈষম্যের নিরসন হয়নি।
বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে শনিবার প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে গ্রামীণ ডাক কর্মচারী ইউনিয়ন জেলা শাখার উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন আকাশ।
তিনি বলেন, জেলার গ্রামীণ ডাক বিভাগে ৫৫৩ জন কর্মচারী কর্মরত। আমাদের বিভাগের বেতন কাঠামো এখনো ব্রিটিশ বৃত্তের মধ্যেই আছে। বর্তমানে পোস্টমাস্টার ৪ হাজার ৪৬৫ টাকা, পিয়ন ৪ হাজার ৩৬৫ টাকা ও রানার ৪ হাজার ১৭৭ টাকা পান। দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতির বাজারে এই বেতনে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া, চিকিৎসা, পোশাক ইত্যাদি খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয়। একই কাজ করলেও বিভাগীয় ডাক কর্মচারীর সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। একই প্রতিষ্ঠানে, একই পদে কর্মরত কর্মচারীর বেতন বৈষম্য চরমে। সারাদেশে প্রায় ২৬ হাজার গ্রামীণ ডাক কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছে। বেতন বৈষম্য নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
যশোর সদরের লেবুতলা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার নজরুল ইসলাম বলেন, ১৯৯৫ সাল থেকে চাকরি করছি। আমার বেতন ৪ হাজার ৪৬৫ টাকা। একই পদের বিভাগীয় পোস্টমাস্টার বেতন পান প্রায় ৩০ হাজার টাকা। সবার কাজ ও কর্মঘন্টা একই। এই বৈষম্য নিরসনের জোর দাবি জানাচ্ছি।
বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা ডাকঘরের রানার মনিরুল ইসলাম বলেন, এত কম বেতনে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে বেতন বৈষম্য দূর করা হোক।
আরো পড়ুন: ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে কৃষকরা হতাশাগ্রস্ত : ফখরুল
সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণ ডাক কর্মচারী ইউনিয়ন জেলা শাখার সভাপতি আব্বাস হোসেন, জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগ নেতা নাছির উদ্দিনসহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/এমআই
