গরমের অনুষঙ্গ

আপডেট : ০২ মে ২০১৪, ১৯:১৩
এসেছে গরম। সেই সঙ্গে তাপদাহ। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তাপমাত্রার এই বাড়তি মেজাজে তরুণরা ভুগছে অস্বস্তিতে। তাপমাত্রার এই মেজাজ আর চারপাশের যান্ত্রিকতা কেড়ে নিচ্ছে পরিবেশের স্বাভাবিক রূপ। আর তাই এই গরমে তরুণদের স্বস্তি দিতে পারে এমনই অ্যাকসেসরিজ পরা উচিত। যা আবার অবশ্যই হওয়ার উচিত বেশ স্টাইলিশ। এ নিয়ে এবারের আয়োজনে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন তাহের মানিক গরমটা একটু বেশিই পড়া শুরু করেছে। ফ্যান বা এসি ছাড়া টেকা বড় দায়। কিন্তু সারাক্ষণ ফ্যান বা এসির নিচে তো থাকা সম্ভব নয়। বাইরে তো যেতেই হবে। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তরুণদের অন্যসব অভ্যাসের পাশাপাশি বাইরে বেরোতে গেলে পোশাক-আশাকেও নানা পরিবর্তন আসে সেই সাথে আসে ফ্যাশনেবল নানা অনুষঙ্গ। গরমের কথা মাথায় রেখে তরুণরা চান আরামদায়ক ও ফ্যাশনেবল পোশাক ও অনুষঙ্গ পরতে। আরামদায়ক পোশাকের জন্য কেউ কেউ ঢুঁ মারছেন ফ্যাশন হাউসগুলোতে, কেউ আবার টেইলার্সের দোকান থেকে তৈরি করে নিচ্ছেন পোশাক। কিন্তু প্রকৃত অর্থে কেমন হওয়া উচিত গরমের পোশাক? এবং তার সাথে অনুষঙ্গগুলোই কেমন হবে এ নিয়ে প্রায়ই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগতে হয় তরুণদের। কাজ কিংবা পড়ালেখা অথবা যারা একটু ঘোরাঘুরি পছন্দ করেন তারা এই গরমেও চলছেন আপন পথে। এই গরমে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো রোদে বেরোনো। কিন্তু এই রোদটাকে কাজে লাগিয়েই কিছু এক্সেসরিজের ব্যবহারে এই গরমেও আপনি নিজের মধ্যে নিয়ে আসতে পারেন স্টাইলিশ লুক। কীভাবে? চলুন তবে দেখে নেওয়া যাক এই গরমের কিছু প্রয়োজনীয় এক্সেসরিজ এবং পোশাক-আশাক। গরমের পোশাক এ গরমেও দিনভর ব্যস্ততা ও ছোটাছুটি তো রয়েছেই। তাই কাজের সুবিধার্থে কিছুটা স্বস্তির জন্য প্রয়োজন আরামদায়ক পোশাক। ফ্যাশন হাউসগুলোয় রয়েছে দেশীয় সুতা ও কাপড়ে তৈরি নানা ধরনের নকশায় ফতুয়া, সালোয়ার-কামিজ, কুর্তা ও পাঞ্জাবি। এসব পোশাক আধুনিক ও আরামদায়ক। তাই ফ্যাশন ও আরাম—দুটোকে মাথায় রেখে পরুন গরমের পোশাক। গরমে ফতুয়া ও কামিজে শর্টস্লিভ ও স্লিভলেস কামিজ বেশি চলছে। স্লিভলেস কামিজে যেকোনো গলাই মানানসই। গোল, ইউ, ভি বা স্কয়ার এবং একটু বড় গলাই পরতে পারেন। অবশ্যই গরমে উঁচু গলা আরামদায়ক নয়। কামিজে জমকালো কাজ না থাকাই ভালো। তাই হালকা কাজ করে গলায় ও নিচের বর্ডারে হালকা লেস, হাতের কাজ বা এমব্রয়ডারি করলে ভালো লাগবে। স্লিভলেস কামিজের সঙ্গে ধুতি বা চুড়িদার সালোয়ার মানানসই। এ ছাড়া ঢিলেঢালা সালোয়ারও ভালো লাগবে। এসব পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন ছোট স্কার্ফ বা ছোট ওড়না। সুতি, সিল্ক, তাঁত, লিলেন, অ্যান্ডি ও ফেব্রিকের নানা ডিজাইনের ওড়না। ক্যাপ ও হ্যাট গরমে সূর্যের প্রচণ্ড তাপ ও রোদ থেকে মুখ আর চুল বাঁচানোর জন্য প্রয়োজন ক্যাপ ও হ্যাট। ব্র্যান্ডের ক্যাপের মধ্যে পাবেন বেইলি হ্যাটম, জ্যাকসন, বারশাহ, স্কালা, অ্যাডিডাস, রিবক, কলম্বিয়া ইত্যাদি। ওয়েস্টেকস, লিভাইস, এক্সটাসি, লি, সোল ড্যান্সের দোকানেও পেয়ে যাবেন পছন্দের ক্যাপ। দাম ১৫০ থেকে ৫০০ টাকা। গরমে ছাতা এই গরমে পড়ছে কাঠফাটা রোদ। তাই রোদ থেকে বাঁচতে খুবই প্রয়োজন ছাতা। অবশ্যই কালো রঙের ছাতা নয়। বাহারি বিভিন্ন রঙের প্রিন্টেড ও ফুলেল নকশা করা ছাতা ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া চায়নিজ, জাপানিজ নানা ধরনের ছাতা বাজারে পাওয়া যায়। বহনের সুবিধার জন্য এমন ছাতা নিন, যাতে ব্যাগে রাখা যায়। এসব ছাতা পাবেন ৩০০-৭০০ টাকার মধ্যে। নিউমার্কেট, রাজধানী মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, ফার্মগেট মার্কেট, রাইফেলস স্কয়ার, ইস্টার্ন প্লাজাসহ সব মার্কেটেই পাবেন পছন্দসই এসব ছাতা। রোদ চশমা প্রচণ্ড এ রোদে সূর্যের দাবদাহ থেকে রেহাই পেতে চলার পথে অবশ্যই দরকার রোদ চশমার। এখন খানিকটা ওভাল রোদ চশমার চল, তবে নিজের মুখের গড়নের সঙ্গে মানানসই রোদ চশমাই বেছে নিন। শুধু ফ্যাশনের মোটিফ নয়, সানগ্লাস এই রোদে অতি দরকারি একটা জিনিস। কাপড়ের সঙ্গে চাইলে মানিয়ে পরতে পারেন রোদ চশমা। বাজারে ব্র্যান্ড ও নন ব্র্যান্ড দুই ধরনের চশমাই পাওয়া যায়। ব্র্যান্ডের মধ্যে আছে পোলিশ, ক্রিস্টিওডিওর, ডলচি অ্যান্ড গ্যাবানা, ম্যাক্স মারা ক্যারেরা, কার্টিয়ের, ডিজেল, শ্যানেল, পিয়েরে কারদিন, গুচি, পোলোও ডক্সলি। দাম ৫৫০ থেকে ৭০০০ টাকা। এ ছাড়া নিউমার্কেট, গাউছিয়া, মৌচাক মার্কেট, ইস্টার্ন প্লাজা, সীমান্ত স্কয়ার ও বসুন্ধরা সিটি সব মার্কেটেই রোদ চশমা পাবেন। স্কার্ফ মেয়েরা সাধারণত স্কার্ফ পরেন না। তবে গরমের সময় ওয়েস্টার্ন পোশাকটাকেই বেশি গুরুত্ব দেন মেয়েরা। আর ওয়েস্টার্ন পোশাকের সাথে স্কার্ফ বেশ ভালো মানিয়ে যায়। এছাড়া এই স্কার্ফ আপনার মাথার ত্বক এবং চুলকে রক্ষা করবে রোদের তীব্রতা থেকে। তাই এই গরমে পোশাকের সাথে মিলিয়ে রাখুন রঙিন স্কার্ফ। স্যান্ডেল গরমে জুতো পরা অনেক কষ্টকর। কারণ জুতো পায়ে বাতাস ঢুকতে বাঁধা দেয়। তাই গরমের সময় নানা ডিজাইনের এবং বিভিন্ন রঙের স্যান্ডেলই বেশি আরামদায়ক। ছেলেরাও পা ঘামার হাত থেকে বাঁচতে চাইলে এই গরমে স্যান্ডেল পরে কাটিয়ে দিতে পারেন। কিছু সচেতনতা এই গরমে অবশ্যই কৃত্রিম এসব পোশাক এড়িয়ে চলতে হবে। পাতলা সুতি কাপড়ের পোশাক পরলে একদিক থেকে যেমন গরম কম লাগবে, অন্যদিকে আরামও লাগবে। ফলে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করা যাবে। পাতলা তাঁত ও খাদি কাপড়ের পোশাকও এ সময় পরা যায়। গরম এলেই সুতি কাপড়ের প্রসঙ্গ চলে আসে। মেয়েদের উচিত পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই ধরনটিকে প্রাধান্য দেওয়া। আর রং নির্বাচনেও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। এই গরমের পোশাকের ক্ষেত্রে সাদা, হালকা গোলাপি, হালকা বেগুনি, হালকা নীল, বাদামি, আকাশি, হালকা হলুদ, ধূসরসহ হালকা রঙের পোশাকগুলো প্রাধান্য পাবে। গরমে সাদা ও অন্যান্য হালকা রঙের পোশাক শুধু তাপ শোষণই করে না, সেই সঙ্গে চোখকে দেয় প্রশান্তি। তবে গরমকালে সাদা রঙের পোশাকের জয়জয়কার সবসময়ই। আবার পোশাকে খুব বেশি টাইট ফিটিংস হলেও কিন্তু সেটা খুব একটা স্বস্তিদায়ক হবে না। একটু ঢিলেঢালা হলেই বরং ভালো হয়। যারা হাইনেক পরেন তারা এ গরমে একটু কলার ছাড়া বড় গলা পরে দেখতে পারেন। আরাম পাবেন। আর হাতাও অবশ্যই ছোট দিতে হবে। গরমে ফুল স্লিভ কিংবা থ্রি-কোয়ার্টার আরামদায়ক নয়। মডেল ইশানা মেকআপ হেয়ারোবিক্স ব্রাইডাল