বাংলাদেশের হুজি নিয়ে চিন্তিত যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ০২ মে ২০১৪, ২৩:২০
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বুধবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সক্রিয় ৫৪টি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের নামের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনের এই তালিকায় বাংলাদেশের হরকাত-উল-জিহাদ-ই-ইসলামের (হুজি-বি) নামও রয়েছে। বাংলাদেশে এটি হরকাতুল জিহাদ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের হাত থেকে দেশকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হলেও নয় বছর আগে নিষিদ্ধ এই সংগঠনটি এখনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাথাব্যথার কারণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের পাঁচ মার্চ হুজি-বি আন্তর্জাতিক সংগঠন হিসাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তালিকাভুক্ত হয়। আফগান ফেরত ৪০০ যোদ্ধার সমন্বয়ে গঠিত এই সংগঠনটির জন্ম ১৯৯২ সালের এপ্রিলে। এর সদস্য সংখ্যা কত তা আজো অজানা। পাকিস্তানের সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই তৈয়বার আদলে হুজি-বি’র কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। আন্তর্জাতিক ইসলামী এনজিও এবং বাংলাদেশের কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অর্থায়নে পরিচালিত হরকাতুল জিহাদকে ২০০৫ সালে সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে গ্রেনেড হামলা, একই বছরের ২১ মে সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর গ্রেনেড হামলা এবং ২০০৫ সালে ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডকে হুজির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসাবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৩ সালে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় হুজি নেতা মুফতি হান্নানের মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কোনো বর্ণনা না থাকলেও আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের আমেরিকায় লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলার যে ঘোষণা ছিল তার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছিল হুজি। ৫৪টি সংগঠনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের বার্ষিক প্রতিবেদনে। এর বাংলাদেশ অংশে বলা হয়েছে, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর জন্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাস করা কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশকে ব্যবহারের পথ কঠিন হয়ে উঠেছে। এছাড়া দক্ষিণ ও মধ্য এশীয় অঞ্চলের একটি প্রভাবশালী অংশীদার বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। এসব কারণে ২০১৩ সালে বাংলাদেশে কোন বড় ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেনি। সন্ত্রাসবাদ দমনে ২০১৩ সালের ২২ অক্টোবর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টিরও উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে। এতে আরো বলা হয়েছে, আল কায়েদার ঘাঁটি হিসাবে সনাক্ত করে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে তাদের কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করা সম্ভব হলেও এ অঞ্চলের ‘সেফ হ্যাভেন’ থেকে তাদের নেতৃত্ব চলছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ অব্যাহত রেখে চলছে তারা। আল কায়েদা এ অঞ্চলে পাকিস্তানি তেহরিকি তালেবান পাকিস্তান ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের মত সংগঠনের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে চলেছে। ২০১৩ সালে দক্ষিণ এশিয়ার জনবহুল এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও সরকারি লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় বাড়তি শক্তি যুগিয়েছে এই সংগঠনগুলো। পাকিস্তান, আফগানিস্তান ছাড়াও ভারতে একই মাত্রায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।