রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। থানার ভিতরে ও বাইরে অন্তত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে মারধর করেছে তারা। গতকাল শুক্রবার দুপুরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নীলক্ষেতের একটি রেস্টুরেন্টে এক পুলিশ কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগ কর্মীর কথা কাটাকাটি জের ধরে এ ঘটনার সূত্রপাত বলে জানিয়েছেন পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন নিউমার্কেট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইফতেখার, হানিফ, এএসআই সাইফুল্লাহ, থানার অপারেটর শামীম ও আনসার সদস্য সবুজ।
নিউমার্কেট থানা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, দুপুর পৌনে তিনটার দিকে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সাইফুল্লাহ নীলক্ষেতে একটি রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় ঐ রেস্টুরেন্টে বসেই ছাত্রলীগের কর্মী নাজমুল, নিশাদ ও মুকিত খাচ্ছিলেন। তারা তিনজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলের ছাত্র। এক পর্যায়ে নাজমুল এএসআই সাইফুল্লাহর কাছে থাকা ওয়ারলেসটি (সাউন্ড) বন্ধ করতে বলেন। সাইফুল্লাহ ‘ডিউটিতে আছি, বন্ধ করা যাবে না’ বলে তাদেরকে জানান। এরপর তিন ছাত্রলীগ কর্মী দ্রুত খাবার শেষ করে হোটেল ত্যাগ করে নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেন। কিছু সময় পর সাইফুল্লাহ ঐ পথ দিয়ে নিউমার্কেট থানার দিকে যেতে চাইলে নাজমুল তার গতিরোধ করে এফ রহমান হলের দিকে টেনে নিয়ে আসেন।
ছাত্রলীগ কর্মীরা কলার ধরে হলের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে চড় মারে বলে অভিযোগ করেছেন এএসআই সাইফুল্লাহ। বিষয়টি চোখে পড়লে ঐ স্থানে দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক হানিফ ও ইফতেখার তাদের পথরোধ করেন। সেখানে এ দুই পুলিশ সদস্যকেও মারধর করা হয়। একই সময় ছাত্রলীগের তিনজনের সাথে আরো কয়েকজন যোগ দেন। এ ঘটনার জের ধরে সোয়া তিনটার দিকে তারা নিউমার্কেট থানার ভেতরে ঢুকে দায়িত্বরত আনসার সদস্য সবুজ ও কনস্টেবল (ফোন অপারেটর) শামীমকেও মারধর করেন। এ সময় তারা থানার সামনের সাইনবোর্ড ভেঙ্গে ফেলে ও থানা কম্পাউন্ডে রাখা ওসির গাড়িতেও ভাংচুর চালায়।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর, নিউমার্কেট ও শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। বিকাল সোয়া চারটার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলের কয়েকজন ছাত্র জানান, ঘটনার সাথে জড়িত ছাত্ররা ছাত্রলীগের হল শাখার সক্রিয় কর্মী।
তবে ছাত্রলীগের এক নেতা অভিযোগ করেছেন, বেশ কিছুদিন ধরেই এফ রহমান হলের কয়েকজন ছাত্রের সাথে নিউমার্কেট থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব চলছিল। সেই দ্বন্দ্ব থেকেই এ ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে।
ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। এর জন্য নির্দিষ্ট কে কে জড়িত তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আমজাদ আলী বলেন, ভুল বোঝাবুঝির জের ধরে ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ সদস্যদের সাথে এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানা গেছে।
