প্রজন্ম প্রত্যাশা

গীতিকার

আপডেট : ০৪ মে ২০১৪, ২০:২৩
গান ভালো লাগে না এরকম মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। গানের ক্ষেত্রে গানের শিল্পী, সুরকারের পাশাপাশি একজন গীতিকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সেই গানই শ্রোতাপ্রিয় হয় যে গানের কথায় এমন কিছু থাকে যা সকলকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়, মনের মধ্যে দোলা দিয়ে যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গান যারা লেখেন তাদেরকে আলাদা পেশাজীবী ধরা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে গান লেখাকে এখনও কেউ পেশা হিসেবে নেওয়ার সাহস পায় না। এই পেশার বর্তমান অবস্থা ও এই পেশা থেকে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানালেন দেশবরেণ্য কয়েকজন গীতিকার। তাদের কথাকে লেখায় রূপ দিয়েছেন আহসান রনি লতিফুল ইসলাম শিবলি কবিতায় সুর দিলেই গান হয়। কবিতার চেয়ে গানের সম্প্রসারণের ক্ষমতা অনেক বেশি। কবিতার শক্তির সাথে সুরের শক্তি মিললে তা সমরাস্ত্রের চেয়েও অনেক গুণ কার্যকরী হয়। গান সমাজ বদলের বা দিন বদলের জন্য তেমন একটা অস্ত্র হতে পারে। যদি সেটা গানের মতো গান হয়। তাই তার প্রত্যাশা, নতুন প্রজন্মের গীতিকবিরা এই কথাটি মনে রাখবে। তারা গীতিকার হওয়ার আগে কবি হয়ে উঠবে। যখন তাদের গানগুলো প্রকৃত অর্থেই গীতিকবিতা হয়ে উঠবে তখনই শক্তিশালী হবে সংস্কৃতি। সেই শক্তিশালী সংস্কৃতিই ঠেকিয়ে দেবে বর্তমানের অপসংস্কৃতি হিন্দির আগ্রাসন। দেশের অডিও ইন্ডাস্ট্রিতে হিন্দি সংস্কৃতির বাজে আগ্রাসন ঘটেছে। তিনি প্রত্যাশা করেন এদেশের গীতিকাররা তাদের গানের কথা দিয়ে এই আগ্রাসন ঠেকানোর কাজ করবে। তারা আরও ভালো ভালো কাজ দেখাবে, যাতে করে এদেশের মানুষ বাংলা গান আরও বেশি শোনে। এদেশে গানের সাথে জড়িত সবাই একসাথে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিভাবান এই গীতিকার। ০০০ অনুরূপ আইচ বাংলাদেশের মানুষ টাকা দিয়ে কিনে গান শোনে, যা এদেশের মানুষের একটি ভালো সংস্কৃতি। একসময় বাংলাদেশের গীতিকাররা শ্রোতাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী অনেক ভালো ভালো অ্যালবাম দিয়েছেন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই ধারা কমে এসেছিল। আগে এটি পেশা থাকলেও পরবর্তীতে এটি আর পেশা হিসেবে ছিল না। বর্তমানে আবারও ভালো ভালো কিছু গীতিকারদের উদ্যোগে ভালো কাজ হচ্ছে এবং গীতিকার পেশাটিও একটি ভালো অবস্থানে যাচ্ছে। তবে এই পেশাকে একটি ভালো পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দরকার শিল্পী, সুরকার, সংগীত পরিচালক ও গীতিকারদের পারস্পারিক ভালো সম্পর্ক তৈরি করা এবং একজন আরেকজনের জন্য কাজ করা। তার প্রত্যাশা, এই পেশার স্বার্থে সকলকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। নিজেদের অধিকার আদায় করে নিতে হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে গানের সাথে জড়িত সকলের মধ্যে পারিশ্রমিক সুষ্ঠু বণ্টন হয় না। মিউজিক কোম্পানি ও শিল্পীরা যদি সহযোগিতাপ্রবণ হন তবেই এই পেশা একটি সুষ্ঠু পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি প্রত্যাশা করেন, অডিও ইন্ডাস্ট্রিতে যেসকল অব্যবস্থাপনা আছে সেগুলো কাটানোর জন্য সবাই এগিয়ে আসবে এবং নিজ স্বার্থে এক হয়ে কাজ করবে এবং একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরির জন্য এগিয়ে আসবে। ০০০ জাহিদ আকবর বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে এই পেশায় যারা আছেন তারা নিজেদের মনের খোরাক যোগানোর জন্যই এই পেশার সাথে জড়িত। কারণ বাংলাদেশে এখনও এই পেশার ক্ষেত্রে সেইরকম পেশাদারী অবস্থার সৃষ্টি হয়নি। এর জন্য তিনি গীতিকারদেরকেই দোষী বলে মনে করেন। তার মতে, গান লেখাকে এখনও গীতিকাররা স্বয়ং পেশা হিসেবে নিতে পারেননি। কিন্তু তিনি প্রত্যাশা করেন, যারা এই পেশার সাথে জড়িত আছেন তারা শুধু ছন্দ মিলিয়ে গান লিখে সংগীত পরিচালক বা শিল্পীকে না দিয়ে নিজেরা পড়াশোনা করে তারপর গান লিখবেন এবং নিজের গানের মূল্য বুঝতে শিখবেন। গীতিকাররা যদি নিজেদের মূল্য না জানতে পারেন তাহলে এই পেশাকে একটি প্রতিষ্ঠিত পেশা হিসেবে কোনোদিনই দেখা যাবে না। তরুণরা জ্ঞানচর্চা করে এবং নিজেদের গানের উপর আত্মবিশ্বাস রেখে তবেই গান লিখবে বলে প্রত্যাশা তার। তিনি আরও প্রত্যাশা করেন দেশের প্রতিষ্ঠিত গীতিকাররা নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই শুরু করবেন। তারা যদি উদ্যোগ নেন তবে এদেশে ‘গীতিকার’ পেশাটি অন্যতম সেরা একটি পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে বিশ্বাস করেন তরুণ ও জনপ্রিয় এই গীতিকার।