সৃষ্টিশীল জগতের প্রতি প্রজন্মের আকর্ষণ জন্মগত। নতুন কিছু করার প্রতি তাদের দুর্নিবার আকর্ষণ। আধুনিক যুগে প্রজন্ম ফ্যাশনের প্রতি সবচেয়ে বেশি আগ্রহী। প্রজন্ম ও ফ্যাশন যেন একে অপর ছাড়া অসম্পূর্ণ। প্রজন্মের কিছু প্রতিনিধি তাদের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে এই ফ্যাশনকেই তাদের পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। তেমনি একটি উদ্যোগের নাম ‘ঈভ’। এটি একটি ফ্যাশন হাউজ হলেও এর সাথে জড়িয়ে আছে মানবিকতা।
প্রাইম-আই ফাউন্ডেশন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিকাশ নিয়ে কাজ করে। ‘ঈভ’ ফ্যাশন হাউজটি প্রাইম-আই ফাউন্ডেশনের একটি অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান। শিশুদের শারীরিক, মানসিক, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পরিবেশগত সচেতনতার উন্নয়নে সহায়তা করতে প্রাইম-আই ফাউন্ডেশনের একটি অর্থ যোগানকারী অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান হিসাবে ঈভ কাজ করে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পরিবারের সদস্য, বিশেষ করে প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে ও মায়েদের ব্লক, বাটিক, অ্যাপ্লিক, হ্যান্ডস্টিচ ও বিভিন্ন হাতের কাজের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা তৈরি করে পরিচালিত হয় ‘ঈভ’। এ ছাড়া পুরুষ সেলাই শ্রমিকদের নিয়ে ইভের স্যুইং, এমব্রয়ডারি ও স্ক্রিন প্রিন্টিংয়ের সেটআপও রয়েছে। ঈভের উত্পাদিত পণ্যগুলোর মধ্যে মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, কুর্তি, শাড়ি ও ছেলেদের পাঞ্জাবি অন্যতম। সম্প্রতি ‘ঈভ’ হস্তশিল্পজাত সামগ্রী বিশেষ করে পাটজাত বিভিন্ন সামগ্রী দেশে ও দেশের বাইরে বাজারজাত করার পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই অনেক সীমাবদ্ধতা ও সীমাবদ্ধ সামর্থ নিয়ে একটু একটু করে এগিয়ে চলার চেষ্টা করছে একে অপরের পরিপূরক এই প্রতিষ্ঠান দুটি। ‘ঈভ’-এর ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ও ফ্যাশন ডিজাইনার মৌসুমী আক্তার বলেন, ‘মহল্লার ২০-২৫ জন সুবিধাবঞ্চিত মেয়েদের বিভিন্ন সূচিকর্মের উপর প্রশিক্ষণ দিয়ে একটা টিম তৈরি করেছিলাম। এবং নিজে উদ্যোক্তা হয়ে একটা বুটিকস হাউজের সূচনাও করেছিলাম। যদিও উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এটা বেশি দূর এগোয়নি। তবে বর্তমানে আমি ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ও ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে এই বুটিকস হাউজের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছি। যা আমাকে নিজের সৃজনশীলতা দেখানোর সুযোগ যেমন দিচ্ছে তেমনি মানবতার জন্য কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে।’ তার মতে, উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রচারণা পেলে সামাজিক কল্যাণের সাথে সম্পৃক্ত এ ধরনের সৃষ্টিশীল কাজের মাধ্যমে বৃহত্তর ক্ষেত্রে তাত্পর্যপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।
