প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় প্রচণ্ড তাপদাহে অস্বাভাবিকভাবে পানি শুকিয়ে যাচ্ছে কাপ্তাই লেকের। পানির অভাবে পানি বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে ৩টি চালানো হচ্ছে। ২টি ইউনিট বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে চলতি মৌসুমে সহসা বৃষ্টিপাত না হলে বিদ্যুত্ উত্পাদনে মারাত্মক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত শনিবার ৩টি ইউনিটে বিদ্যুত্ উত্পাদন হয়েছে ৮৮ মেগাওয়াট।
পিডিবি কাপ্তাই কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. আবদুর রহমানের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট। গত শনিবার ৩টি ইউনিটের মধ্যে ১টি পুরোদমে চললেও পানির অভাবে বাকি ২টি ইউনিট রেশনিং পদ্ধতিতে চালানো হয়েছে। লেকে রুলকার্ভ অনুযায়ী এ সময় পানি থাকার কথা ৮১.৬২ এমএসএল (মিন সি লেভেল); কিন্তু বর্তমানে পানি রয়েছে ৭৬.৫৯ এমএসএল। ৬৮ এমএসএলকে বিপজ্জনক হিসেবে ধরা হয়। পানির লেভেল এর নিচে নেমে গেলে বিদ্যুত্ উত্পাদন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাবে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী কিছুদিনের মধ্যে বিদ্যুত্ উত্পাদন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৬০ সালে পানি বিদ্যুত্ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার সময় শুকনো মৌসুমে লেকে পানি কমে গেলে নিচের কর্ণফুলী নদী থেকে বিকল্প পদ্ধতিতে লেকে পানি এনে কেন্দ্র সচল রাখার একটি পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাপ্তাই নতুন বাজারের পাশে উপ-বাঁধ রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর হতে প্রতি বছর শুকনো মৌসুম এলে পানি শুকিয়ে বিদ্যুত্ উত্পাদনে ধস নামে; কিন্তু এ পর্যন্ত বিকল্প পদ্ধতিতে লেকে কখনো পানি উঠানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
সূত্র আরো জানায়, কাপ্তাই জল বিদ্যুত্ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পর হতে এ পর্যন্ত লেকে ড্রেজিং করা হয়নি। অথচ প্রতিদিন প্রচুর বর্জ্য কাপ্তাই লেকে এসে পড়ছে। এতে লেকের পানি ধারণ ক্ষমতা দিন দিন কমছে। পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে কাপ্তাই লেকে ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেয়া হলেও এখনো পর্যন্ত ড্রেজিং হয়নি।
