ব্যাংকে খেলাপি ঋণ কমেছে ১৫ হাজার কোটি টাকা

আপডেট : ০৪ মে ২০১৪, ২৩:১১
বিশেষ সুবিধায় ঋণ নবায়নের সুবিধা নেয়ায় ব্যাংকিং খাতে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ কমেছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। রাজনৈতিক অচলাবস্থায় ব্যবসা-বাণিজ্য মন্দার কারণে গত বছরের শেষের দিকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। অনেকেরই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করার মতো উপায় ছিল না। এজন্য বেড়ে গিয়েছিল খেলাপি ঋণ। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ নবায়নের নীতিমালা শিথিল করায় খেলাপি ঋণ কমে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের মার্চ মাসেও খেলাপি ঋণ কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ৪১ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ। গত সেপ্টেম্বর শেষে ছিল ৫৬ হাজার ৭২০ কোটি টাকা, যা ওই সময়ের মোট ঋণের ১২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। তবে ঋণ নবায়নের বিশেষ সুবিধার মেয়াদ আগামী জুনে শেষ হবে, তাই এখনই শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন ব্যাংকাররা। বিশেষ সুবিধা নিয়ে অনেক খেলাপি ঋণ নবায়ন করায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে যায়। আর খেলাপি ঋণ কমে যাওয়ায় বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়েছে কম। এর ফলে ব্যাংকগুলোর মুনাফার পরিমাণও বেড়ে যায়। গত বছর শেষের দিকে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবিরতার সৃষ্টি হয়। ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে গত বছর ডিসেম্বরে এক সার্কুলারের মাধ্যমে সবধরনের শিল্প ঋণের নবায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সার্কুলারের ফলে ব্যাংক গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ডাউন পেমেন্ট না দিয়েই খেলাপি ঋণ নবায়ন করেন বড় খেলাপিরা। আগে ঋণ খেলাপিরা তিনবারের বেশি ঋণ নবায়ন করতে পারতেন না। প্রথমবার নবায়ন করা যেতো তিন বছরের জন্য। দ্বিতীয়বার ২ বছর, তৃতীয়বার ১ বছরের জন্য ঋণ নবায়ন করা যেতো। প্রথমবার ঋণ নবায়ন করতে হলে মোট ঋণের এককালীন নগদ ১০ শতাংশ, দ্বিতীয়বার ২০ শতাংশ এবং তৃতীয়বার ৩০ শতাংশ এককালীন পরিশোধ করতে হতো। কিন্তু ওই সার্কুলারের ফলে ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই, অথবা কম ডাউন পেমেন্ট নিয়ে যে কোন প্রকার ঋণ যে কোন সময়ের জন্য নবায়ন করতে পারছেন ব্যবসায়ীরা। দ্বিতীয়ত: ঋণ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও বিশেষ ছাড় দেয়া হয়। নীতিমালা অনুযায়ী কোন ঋণ পরিশোধের সময়কাল ব্যাংকগুলো ইচ্ছে মাফিক বাড়াতে পারে না। প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকগুলো ঋণ পরিশোধের সময় সর্বোচ্চ এক বছর বাড়াতে পারতো। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক্ষেত্রেও বিশেষ ছাড় দিয়েছে। এখন থেকে কোনো ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ব্যাংক গ্রাহকের সুবিধামতো বাড়াতে পারছে। এছাড় আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য ব্যাংকগুলোকে খেলাপি ঋণের বিপরীতে ২০ শতাংশ থেকে শতভাগ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। এটি করা হয় ব্যাংকের মুনাফা থেকে অর্থ এনে। তিন প্রকার খেলাপি ঋণের মধ্যে কোনো ঋণ নিম্নমান হলে তার বিপরীতে ২০ শতাংশ, সন্দেহজনক ঋণ হলে তার বিপরীতে ৫০ শতাংশ আর মন্দ বা কু মানের ঋণ হলে তার বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। খেলাপি ঋণ বেড়ে গেলে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয় বেশি। এতে কমে যায় ব্যাংকের নিট মুনাফার পরিমাণ। তিন মাসের ব্যবধানে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ কমে যাওয়ায় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়েছে তুলনামূলকভাবে কম পরিমাণ। এতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে ব্যাংকের মুনাফার ওপর। যদিও এ মুনাফা কৃত্রিম হওয়ায় তা শেয়ার হোল্ডারদের মাঝে বিতরণ করতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।