পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গলাচিপা নদীতে গত শনিবার দুপুর আড়াইটায় কালবৈশাখী ঝড়ে ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী এম এল শাথিল-১ লঞ্চের উদ্ধার কাজ গতকাল রাত ১০টার দিকে শেষ হয়। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা গতকাল রবিবার সাড়ে পাঁচটায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং সন্ধ্যায় উদ্ধার কাজ শুরু করে। গতকাল ৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। রাতে লঞ্চ তীরে আনা হয়। গলাচিপার ইউএনও (চলতি দায়িত্বে) গাজী মো. সায়েন-উজ-জামান জানান, আর কোন লাশ পাওয়া যায়নি। এ লঞ্চডুবির ঘটনায় পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩ জন শিশু, ৮ জন মহিলাসহ ১৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এরা হলেন রাঙ্গাবালী উপজেলার মাঝনেতা গ্রামের মিজানুর রহমান (৪৫), তার ৭ দিনের শিশুপুত্র, নিপু বেগম (৩৫), সেনের হাওলার মনোয়ারা বেগম (৫০), গঙ্গীপাড়ার রিশাদ (৫), কাটাখালীর তিন্নি আক্তার (৬), রাঙ্গাবালীর লুত্ফা বিবি (৫৫), রেনু আক্তার লিজা (২৫), গলাচিপা উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের রুনিয়া বেগম (২৫), রাশিদা বেগম (৫০), গজালিয়ার নাছিমা বেগম (৪৫), কলাপাড়া উপজেলার মাছুয়াখালী গ্রামের নরায়ন মিস্ত্রি (৬০), পটুয়াখালী সদর উপজেলার চর মৈষাদী গ্রামের ওয়াহিদা বেগম (২৭) ও কোটালীপাড়া চাষড়া এলাকার জয়নাল (৩৫), গলাচিপার ইচাদির মরিয়ম (৩)। এছাড়া গলাচিপা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা স্বজনদের উদ্ধৃতি দিয়ে আরও দুইজনের নিখোঁজের খবর জানিয়েছেন। তারা হলেন রাঙ্গাবালীর বড়বাইশদিয়ার হাসান (১৪) ও পটুয়াখালীর চর মৈষাদীর ওহিদুল (৩)।
উল্লেখ্য, গত শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে রাঙ্গাবালী থেকে পটুয়াখালীর উদ্দেশ্যে আসা এমএল সাথিল-১ যাত্রী লঞ্চ কলাগাছিয়া এলাকার নদীতে ডুবি ঘটে। এ সময় ১০/১২ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও অপর যাত্রীরা লঞ্চসহ ডুবে যায়।
