কয়েক দিন আগে ক্যান্টিনে বসে সকালের নাস্তার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আমাদের হলের এক বড় ভাই হঠাত্ ক্যান্টিনে ঢুকে ১২ বছর বয়সী ক্যান্টিন-বয়ের গালে চড় বসিয়ে দিলেন। ক্যান্টিনে উপচে পড়া ভিড়ের কারণে নাস্তা পরিবেশন করতে দেরি হওয়ায় তার এ শাস্তি ভোগ। অথচ আরো অনেকেই অনেকক্ষণ ধরে নাস্তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। মুহূর্তে ছেলেটির চোখ দুটো ভিজে উঠলো। হয়তো আমাদের সে বড় ভাই ভুলে গিয়েছিলেন যে তিনি একজন সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের ছাত্র—তাঁর কাছ থেকে সদ্ব্যবহার, ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা একান্ত কাম্য। আমি নিশ্চিত যে আমাদের সে বড় ভাই যখন ছেলেটার বয়সী ছিলেন তখন হয়তো তিনি নিজের কাজ নিজে করতেই অপারগ ছিলেন। আর সেই বয়সে ক্যান্টিনের ছেলেটা সবার আজ্ঞাবহে পরিণত হয়েছে। যদি সে একটু সুযোগ পেতো তাহলে ক্যান্টিনে কাজ না করে অন্য ছেলেদের মতো স্কুলে যেতো। নিয়তির কী নিষ্ঠুর পরিহাস! দারিদ্র্য তাকে তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। বৈষম্যের এ বিবেকহীন সমাজ তাদেরকে উপেক্ষা করে চলেছে। সেইসঙ্গে আমরা কিছু বিবেকবানও (?) তাদের উপেক্ষা করে চলেছি।
মোল্লা আবু সালেহ,
জহুরুল হক হল,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
