হাইকোর্টের নির্দেশে ক্লাস করার অধিকার ফিরে পেল কাজী রাইতা। মায়ের ‘শৃঙ্খলা ভঙ্গের’ অভিযোগে প্রথম শ্রেণির ছয় বছরের এই শিক্ষার্থীকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠায় লালবাগ মডেল স্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এক আদেশে ওই শিশু শিক্ষার্থীর ক্লাসে যাওয়ার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের ডিভিশন বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেন।
গত ১০ এপ্রিল রাইতার মা বিলকিস বানু প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন মর্মে ১৭ এপ্রিল একটি নোটিস দেয়া হয়। এতে রাইতাকে স্কুল থেকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠায়, যা কার্যকর হয় ১৯ এপ্রিল। রাইতার বাবা কাজী ওবায়দুর রহমানকে দেয়া ওই নোটিসে বলা হয়, আপনার সন্তানকে তার মায়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে কেন বহিষ্কার করা হবে না, ৭ দিনের মধ্যে তা জানানোর নির্দেশ দেয়া গেলো। এই নোটিসের জবাব দেন রাইতার বাবা। নোটিসে রাইতার মায়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও সত্য নয় বলে দাবি করা হয়। এছাড়া মায়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য হলেও সেই অপরাধে স্কুল থেকে তার সন্তানকে বহিষ্কার করা যায় না। এ বিষয়ে একটি লিগ্যাল নোটিস পাঠান তার আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল হালিম। কিন্তু ওই নোটিসের কোন জবাব দেয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ।
পরে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রবিবার হাইকোর্টে রিট করেন রাইতা। তবে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তার পক্ষে হলফনামায় স্বাক্ষর করেন তার মা বিলকিস বানু। হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে অন্য শিক্ষার্থীদের মতো রাইতাকেও ক্লাস, পরীক্ষা এবং অন্যান্য কার্যক্রমে অংশ নিতে ওই স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া শৃঙ্খলা বিধি ও নীতিমালা অনুসরণ না করে রিটকারীকে স্কুল ত্যাগে বাধ্য করে দেয়া নোটিস কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে আদালত। শিক্ষা সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন), অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে ব্যারিস্টার আবদুল হালিম ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করিম শুনানি করেন।
