প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে সাত জনকে অপহরণ ও খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত ক্ষমতাধর হোক না কেন কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে সেই সব অপরাধীকে খুঁজে বের করার জন্য তার সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জের এই ঘটনায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার জন্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্দেশ দেন।
এদিকে মন্ত্রিসভার এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও সার্বিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের ভিসা অব্যাহতি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন লাভ করেছে। মন্ত্রিসভার নিয়মিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন ভূঁইঞা প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, এ চুক্তি স্বাক্ষর হলে দুই দেশের কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীরা ভিসা অব্যাহতি ও ট্রানজিটে সুবিধা পাবেন। তারা ৯০ দিনের জন্য এ সুবিধা পাবেন। তিনি বলেন, এ চুক্তির নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ নেই। তবে কোন দেশ চাইলে অন্য দেশকে নোটিস দিয়ে চুক্তি বাতিল করতে পারবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, চুক্তিটি বাংলা, সার্বিয়া ও ইংরেজি এই তিন ভাষায় লিখিত হবে। তবে ইংরেজি ভাষা গুরুত্ব পাবে। তিনি বলেন, ভিসা অব্যাহতিকরণ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে উভয় দেশের মধ্যে যেমন সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পাবে, তেমনি বাণিজ্য সুবিধা ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বস্ত্র খাতের পোষক কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন বস্ত্র অধিদপ্তরে ন্যস্ত করার নিমিত্তে মন্ত্রিসভা বৈঠকে ইতিপূর্বে গৃহীত সিদ্ধান্ত সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শিল্পনীতিতে বলা হয়েছে, যে শিল্প যে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন, তারাই হবে ওই শিল্পের পোষক কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ১৯৯২ সালের ৭ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পোষক কর্তৃপক্ষ হবে বাংলাদেশ কুটিরশিল্প কর্পোরেশন (বিসিক), রপ্তানি ও প্রক্রিয়াজাত পণ্যের পোষক হবে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (বেপজা) এবং অন্যসব শিল্পের পোষক হবে বিনিয়োগ বোর্ড। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, শিল্পনীতি অনুযায়ী বস্ত্রখাতের পোষক হয় বস্ত্র অধিদপ্তর, আবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পোষক হয় বিনিয়োগ বোর্ড। এ জটিলতা নিরসনের জন্যই গতকালের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৯২ সালের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। তিনি বলেন, এর ফলে এখন থেকে বস্ত্রখাতের পোষক কর্তৃপক্ষ হবে বস্ত্র অধিদপ্তর।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, গত ৪ এপ্রিল জেনেভায় অনুষ্ঠিত ‘দ্বিতীয় জেনেভা ডায়লগ’ এ বাণিজ্যমন্ত্রীর অংশগ্রহণ ও আরব আমিরাত সফরের সাফল্য মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি)’র সময়সীমা শেষ হয়ে যাচ্ছে। এরপর কি হবে সে বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী সরকার ও সরকারের বাইরে আলোচনা চলছে, জেনেভা ডায়লগে তার উপরই গুরুত্বারোপ করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জেনেভা ডায়লগে ২০২০ সালের মধ্যে সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি বলেন, জেনেভা ডায়লগে বাণিজ্যমন্ত্রী বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে জানান, এমডিজি বাস্তবায়নে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত সহযোগিতা পায়নি। তবে এসডিজি বাস্তবায়নে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে বাংলাদেশ যেন প্রত্যাশিত সহযোগিতা পায় সে নিশ্চয়তা বাংলাদেশকে তাদের দিতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আরব আমিরাত সফরের জন্য দুবাই সরকার যে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সে বিষয়টি বাণিজ্যমন্ত্রী মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেন।
