নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভোলাইল এলাকায় গত রবিবার রাতে নিজ বাড়িতে খুন হয়েছেন এক দম্পতি। জমি-জমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাদের হত্যা করা হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। নিহতরা হলেন আমানউল্লাহ (৫৫) ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী হোসনে আরা (৩৫)। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আমানউল্লার আগের ঘরের মেয়ে হাবিবা, দুই শ্যালক আবু বক্কর সিদ্দিক ও আলমগীর হোসেনকে আটক করেছে।
ফতুল্লার ভোলাইল বাজার ব্রিজ এলাকায় অবস্থিত আমানউল্লাহর বাড়িটি। বাড়ির ভাড়াটিয়া খালেদা জানান, রাত সাড়ে তিনটার দিকে বাড়িওয়ালার মেয়ে হাবিবার চিত্কার শুনে বেরিয়ে দেখি কলাপসিবল গেটের সামনে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছে সে। বাড়িওয়ালা ও তার স্ত্রী রক্তাক্ত অবস্থায় খাটে-মেঝেতে পড়ে আছে। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, আমানউল্লাহর সঙ্গে প্রথম স্ত্রী হাজেরা আক্তার রিনা ও তাদের ছেলে আরিফের সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। এ নিয়ে আমানউল্লাহকে এর আগে মারধর করেছিল আরিফসহ অন্যরা। ওই ঘটনায় আমানউল্লাহ একটি মামলাও দায়ের করেছিলেন। পরে আমানউল্লাহ সম্পদের ভাগ দিয়ে হাজেরাকে তালাক দেন এবং হাজেরা ও আরিফকে বিদায় করে দেন। বর্তমানে হাজেরা গাজীপুরে বসবাস করেন। তবে হাজেরা ও ছেলে আরিফকে বিদায় করে দিলেও মেয়ে হাবিবাকে নিজের কাছেই রেখেছিলেন আমানউল্লাহ। ৪/৫ মাস আগে আমানউল্লাহ হোসনে আরাকে বিয়ে করেন।
হাবিবা জানান, আমরা যে বাড়িটিতে থাকি সে বাড়ি থেকে প্রতিমাসে দেড় লাখ টাকা ভাড়া আসে। বাবা বাড়িটি তার মা হাজেরা আক্তার রিনা, ভাই আরিফ ও বোন মুন্নিসহ আমাদের চার জনের নামে লিখে দেন।
পারিবারিক শত্রুতার বিষয়টি স্বীকার করে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই বাশার জানান, তিনি আমানউল্লাহর ওই মামলাটি তদন্ত করেছিলেন।
ফতুল্লা মডেল থানার ইন্সপেক্টর সাইফুল ইসলাম জানান, ময়না তদন্তের জন্য লাশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ১শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের জন্য তদন্ত চলছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৮ টি রক্ত মাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতার হোসেন জানান, প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে আমানউল্লাহর দ্বিতীয় স্ত্রীর জমির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ঝামেলা ছিলো। সেই বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন।
