নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম এবং আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় আইন-শৃংখলা বাহিনী জড়িত কি-না তা খতিয়ে দেখতে তদন্তে নেমেছে র্যাবসহ তিনটি সংস্থা। গতকাল সোমবার এ ব্যাপারে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে র্যাব।
র্যাব-১১ এর কয়েকজন সদস্য ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে এই হত্যাকান্ডে সহযোগিতা করেছেন বলে সম্প্রতি নজরুলের শ্বশুর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করেন। গতকাল সোমবার দৈনিক ইত্তেফাকসহ সকল গণমাধ্যমে এ খবর ফলাও করে প্রচার করা হয়। এ সংবাদ নিয়ে গতকাল নারায়ণগঞ্জসহ সমগ্র দেশে তোলপাড় হলে প্রশাসনের টনক নড়ে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এ ঘটনার পর র্যাবের পক্ষ থেকে ওই অভিযোগের সত্যতা ও প্রকৃত ঘটনা বের করার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গতকাল র্যাব সদর দফতর থেকে এ কমিটি গঠনের আদেশ জারি করা হয়।
৪ সদস্যের ওই তদন্ত কমিটির সভাপতি র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডিআইজি আফতাব উদ্দিন আহমেদ। কমিটির অপর তিনজন হচ্ছেন, র্যাব-১০ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার গোলাম সারোয়ার, র্যাব-৩ এর মেজর সাদিকুর রহমান ও র্যাব-১০ এর এএসপি মো. সাজ্জাদ হোসেন। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে র্যাবের মহাপরিচালক মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, সাত হত্যাকান্ডে র্যাবের কোন সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া আরও ২টি সংস্থা ৬ কোটি টাকার অভিযোগের বিষয়টি তদন্তে মাঠে নেমেছে বলে তিনি জানান।
এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকেও সাত হত্যাকাণ্ডের তদন্তের পাশাপাশি ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুলিশের দায়িত্ব পালনে কোন অবহেলা রয়েছে কিনা বা ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তা-ও দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, কোন ধরনের অবহেলা কিংবা সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেলে জড়িতদের কঠোর অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।
