অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করে না এমন প্রাণী পৃথিবীতে বিরল। সদ্য ভূমিষ্ট হওয়া শিশুটি কান্নার মাধ্যমে পৃথিবীতে তার আগমন এবং অস্তিত্বের জানান দেয়। এটা প্রাণীকুলের প্রবাহিত ধারা। এমন মানুষ আছে যারা পৃথিবীতে আগমনের জানানটা দেয়, তারপর অনায়াসে মরবার আকাঙ্ক্ষায় বেঁচে থাকে। এমন মানুষ ভুবনে অনেক যারা কীট-পতঙ্গের মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। সুযোগ পেলেই যে কেউ তাদের আঘাত করে। এরকম মানুষ আমরা বস্তিতে, ফুটপাতে, ঘাটে, বাসস্ট্যান্ডে এবং রেলস্টেশনে দেখি। আমাদের চেনা স্টেশন কমলাপুর অথচ সেখানে অচেনা হাজার হাজার মানুষ। প্রতিদিন স্টেশনে সহস্র পদচারণা। একটা পায়ে পদদলিত হয়ে আর একটি পায়ের ছাপ ধূলায় উড়ে যায়। শুধু যায় না ছিন্নমূল মানুষগুলো। কোথায় যাবে তারা? কারো জন্ম স্টেশনে, কাউকে জন্মের পর ফেলে গেছে মা। কেউ নিরুদ্দেশ হয়ে কমলাপুরকে ঠিকানা করে নিয়েছে।
নগরীর একপ্রান্তে সুখের অন্ত নেই। অন্য প্রান্তে দুঃখ গড়াগড়ি। একজন ভোজনবিলাস করে নিদ্রা যায়। অন্যজন অভুক্ত থাকে। স্টেশনের ছিন্নমূল মানুষগুলোকে রোজই অর্ধাহারী-অনাহারী অবস্থায় ঘুমোতে হয়। ঘুম! মশার কামড়ে ঘুম কি আর হতে চায়? সঙ্গে যোগ হয় প্রচণ্ড গরম। কোনোভাবেই জীবন থেকে ওরা এসব তাড়াতে পারে না।
এসব দৃশ্য আমাদের চোখে পড়ে না। বিবেক নাড়া দেয় না। খোলা আকাশের নিচে শুয়ে থাকা মানুষগুলোর দিকে তাকাই, তাদের প্রতি মানবতা দেখাই না। উম্মুক্ত আকাশ আর ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে ব্যবধান তৈরি করার জন্য কোনো পদক্ষেপ নেই না। বছরের পর বছর স্টেশনের এই মানুষগুলো এভাবেই দিন কাটাচ্ছে। এ দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা আমরা জানি। মন্ত্রিপাড়া আর এমপি হেস্টেলগুলো নাগরিক সুবিধাসম্মত হলে সব ঠিক। বাকিরা আলোর অভাবে অন্ধকারে থাক তাতে কারো কিছু যায় আসে না।
ফরিদপুর
