মেয়ে ঐশীসহ তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

আপডেট : ০৭ মে ২০১৪, ০০:০৯
পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান এবং তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যাকাণ্ডের মামলায় তাদের মেয়ে ঐশী রহমানসহ তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। আগামী ৫ জুন এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ জহুরুল হক গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। অভিযুক্ত অন্যরা হলেন- ঐশীর বন্ধু আসাদুজ্জামান ওরফে জনি (২৭) ও মিজানুর রহমান রনি (২৫)। গতকাল ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে এ মামলাটির অভিযোগ আমলে নেয়ার জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়ার শুনানির শুরুতে ঐশীর আইনজীবী মাহবুব হাসান রানা বলেন, মামলার তদন্ত সুষ্ঠু হয়নি। ঐশী অব্যাহতি পাওয়ার দাবিদার। এসময় বিচারক বলেন, আসামি পক্ষের আইনজীবী হিসাবে মামলার তদন্তের বিষয়ে আপনার কোন বক্তব্য দেয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ থেকে অব্যাহতির জন্য কোন আইনগত সুযোগ আছে কিনা সে বিষয়ে আপনি শুনানি করেন। এরপর ঐশীর জামিন আবেদনের শুনানিতে তিনি বলেন, গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৯ মাস যাবত্ ঐশী কারাগারে আছে। তাকে জামিন দেয়া যেতে পারে। এরপর ঐশীর বন্ধু মিজানুর রহমান জনি ও রনির পক্ষে অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন তাদের আইনজীবীরা। পরে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাডভোকেট শাহ আলম তালুকদার বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। ঐশী ও মামলার সাক্ষীরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ অবস্থায় তাদের অব্যাহতি বা জামিন কোনটিরই কোন সুযোগ নেই। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক আসামিদের অব্যাহতি ও জামিনের উভয় আবেদনই নাকচ করে রাষ্ট্রপক্ষকে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়ে শোনাতে বলেন। এসময় আসামিরা দোষী না নির্দোষ এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জবাবে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। সংশ্লিষ্ট বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আগামী ৫ জুন সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন। এদিকে একই মামলায় অভিযুক্ত এসবি দম্পতির বাসার কাজের মেয়ে সুমি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় শিশু আদালতে বিচারের জন্য নথিটি ঢাকার ১ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। একইসঙ্গে সুমির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামী ২০ মে দিন ধার্য করেন। গত ৯ মার্চ মহানগর গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ (পূর্ব) এর পরিদর্শক মো: আবুয়াল খায়ের মাতুব্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে পৃথক দু’টি অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রের একটিতে ঐশী, জনি ও রনিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কাজের মেয়ে সুমি অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগে নিজেদের বাসা থেকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (পলিটিক্যাল শাখা) পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পর দিন তাদের মেয়ে ঐশী রহমান রমনা থানায় নিজেই আত্মসমর্পণ করেন।