খুলনা মহানগরীর নতুন বাজার এলাকায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চিংড়ি ডিপোর নোংরা পানি শোধনাগার (ওয়েস্ট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) কোন কাজে আসছে না। ভেঙে গেছে শোধনাগারের মূল ড্রেনের সাথে ডিপোর সংযোগ পাইপগুলো। তদারকি না থাকায় এখানকার প্রায় সাড়ে ৩শ’ ডিপো মালিক উপকার পাচ্ছেন না বলে অধিকাংশের অভিযোগ। নির্মাণের পর দুই বছর পার হলেও প্রকল্পটি বুঝিয়ে দেয়া হয়নি খুলনা সিটি কর্পোরেশনকে (কেসিসি)। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর পানি শোধানাগারটি এখনও পরীক্ষামূলকভাবে চালাচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও চিংড়ি ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, নগরীর নতুন বাজার এলাকা বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলের চিংড়ি ব্যবসার একটি বড় কেন্দ্র। এখানকার প্রায় সাড়ে তিনশ’ মাছের ডিপোতে প্রতিদিন চিংড়ি ধোয়া প্রচুর ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি বের হয়। এই পানি পার্শ্ববর্তী নালায় জমে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায়। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ২০০৬ সালে এলজিইডি’র উদ্যোগে নতুন বাজার এলাকায় ‘ওয়েস্ট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’ তৈরির কাজ শুরু করা হয়। নির্মাণের পর এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব অর্পণের শর্ত ছিল কেসিসির ওপর। নেবুলা টেকনো সলিউশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০০৮ সালে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ করে। প্রকল্পটি শেষ হওয়ার পর ২০০৯ সালে কেসিসিকে বুঝিয়ে দেয়ার সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষাকালে বিভিন্ন নির্মাণ ত্রুটি ধরা পড়ে। যে কারণে কেসিসি কর্তৃপক্ষ তখন এর দায়িত্বগ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করে। এরপর প্রায় ৫ বছর পার হলেও সেটি এখনও কেসিসিকে বুঝিয়ে দেয়া হয়নি।
এলজিইডি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোশারফ হোসেন বলেন, নির্ধারিত সময়ে এর নির্মাণ কাজ শেষ হলেও বিদ্যুত্ সংযোগ না পাওয়ায় প্রায় দুইবছর খোলা অবস্থায় পড়েছিল। যে কারণে পাইপে ময়লা জমে তা’ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর এগুলো সংস্কার করে আবার চালু করা হয়েছে। এখন পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। শোধনাগারটি পুরোপুরি চালু হলে নতুন বাজারের প্রায় সাড়ে তিনশ’ ডিপোর পানি দূষণমুক্ত হয়ে নদীতে পড়বে। তিনি জানান, প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ। প্রতিদিন ৫০ কিউবিক মিটার পানি শোধন করা হচ্ছে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৬ সালে শেষ হবে। এলজিইডি প্রকল্পের জন্য সর্বমোট ২৭ লাখ টাকা মেরামত ও পরিচালনা বাবদ খরচ করবে। খুব দ্রুত প্রকল্পটি কেসিসিকে বুঝিয়ে দেয়া হবে বলে তিনি জানান।
