ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সন্ত্রাসী ও জঙ্গি অর্থায়ন বিষয়ে আবারো পরিদর্শনে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশের পর এ বিষয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি বিশেষ দল খুবই গোপনীয়তার সঙ্গে ইতিমধ্যে কাজও শুরু করেছে। চলতি মাসে পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং এ ধরনের কার্যক্রম প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক কি কি পদক্ষেপ নিচ্ছে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে।
জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংকের সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কার্যক্রমে অর্থায়ন বিষয়ে জানতে চেয়ে গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি চিঠি দেয়া হয়। চিঠিতে ইসলামী ব্যাংকের এ ধরনের কার্যক্রম এবং তা বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেয়া পদক্ষেপ সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে। চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের (বিআরপিডি) একটি পরিদর্শন প্রতিবেদনেরও উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে। তবে সে পরিদর্শনে জঙ্গি অর্থায়ন খুঁজে পেয়েছে কিনা সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। সেখানে বলা হয়েছে, প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শনে অনেকগুলো অনিয়ম উদঘাটিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক (জিডিএম) পর্যায়ের এক কর্মকর্তাকে এটির সমন্বয় করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ কমিটি ইতিমধ্যে কাজও শুরু করেছে। কাজ শেষ করে বিআরপিডির মাধ্যমে এ মাসের মধ্যেই একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে দাখিল করার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এবিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মাহফুজুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংকে এসেছে বলে জেনেছি। তবে এর অগ্রগতি বা অন্য কোন বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাননি তিনি।
সন্ত্রাস বা জঙ্গি অর্থায়ন বিষয়ে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মান্নান ইত্তেফাককে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের জন্মলগ্ন থেকে সন্ত্রাসে বা জঙ্গিবাদে কোন অর্থায়ন তো দূরে থাক, এ ধরনের কার্যক্রমও সমর্থন করে না। বিভিন্ন অনুসন্ধান ও পরিদর্শনে সে বিষয়টি প্রমাণও হয়েছে বিভিন্ন সময়। ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে বার বার যে ধরনের অভিযোগ নিয়ে আসা হচ্ছে তা দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যবশত।
