মোদীর জন্য এখন প্রতিটি আসনই গুরুত্বপূর্ণ

আপডেট : ০৭ মে ২০১৪, ২৩:১৯
ভারতে ১৬তম লোকসভা নির্বাচনের ভোট যুদ্ধ প্রায় শেষ দিকে। গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত হয়ে গেল অষ্টম ধাপের নির্বাচন। আগামী ১২ মে’র নির্বাচনের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে দীর্ঘ এক মাসের বেশি ধরে চলা নির্বাচন। কিন্তু নির্বাচন যতোই শেষের দিকে অগ্রসর হচ্ছে ততোই ভারতীয় জনতা পার্টির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদীর জন্য প্রত্যেকটি আসন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এদিকে বারানসিতে বিজেপির আজকের জনসভায় মোদীর অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল পশ্চিমবঙ্গ-সহ ছয় রাজ্যের ৬৪টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন জায়গা থেকে বিক্ষিপ্ত কিছু সংঘর্ষের খবর পাওয়া গিয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে ২টি, হিমাচল প্রদেশে ৪টি, উত্তরাখণ্ডে ৫টি , অন্ধপ্রদেশে ২৫টি, উত্তরপ্রদেশে ১৫টি, বিহারে ৭টি এবং পশ্চিমবঙ্গের ৬টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সীমান্ধ্রে শতকরা ৭১ ভাগের ওপরে ভোট পড়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে প্রায় ৫০ ভাগ, পশ্চিমবঙ্গে ৮১ দশমিক ২৮ শতাংশ, উত্তরাখন্ডে ৬৩ ভাগ, হিমাচলে ৬৫ ভাগ এবং উত্তরপ্রদেশে ৫৭ দশমিক ৫০ভাগ ভোট পড়েছে। সীমান্ধ্রের ২৫ টি আসনে ২০০৯ সালে কংগ্রেস ২১ টি আসনে জয় পেয়েছিল। কিন্তু এবছর তেলেঙ্গানা ইস্যুতে কেবল একটি আসনে জয়লাভের সম্ভাবনা কংগ্রেসের। এক্ষেত্রে মোদী আশাবাদী। তবে ভোটাররা যে তার পক্ষে আছে সেটা বলা যাবে না। উত্তরপ্রদেশ, বিহার,উত্তরাখন্ডে এবং হিমাচলে ৩১টি আসন পাওয়ার হিসাব কসছেন মোদী। ২০০৯ সালে তারা এইসব আসনের মধ্যে মাত্র চারটি আসনে জয় পেয়েছিল বিজেপি। তবে মোদীর যেটা আশা করছেন সেটা নাও হতে পারে। কারন তার বিরোধীরা এখানে শক্তিশালী। তবে উত্তরপ্রদেশে সুলতানপুরে বরুণ গান্ধীর আসনে জয়ের সম্ভাবনা তার। এই প্রদেশের ১৫টি আসনে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তিনি ভোট কেন্দ্রে ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে মোদী নির্ভর করছেন আরএসএস’র উপর। এলাহাবাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর ছেলে আদর্শ শাস্ত্রী একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে মোদীর দলের জন্য। শাস্ত্রী আম আদমি পার্টি থেকে লড়াই করছেন। ২০০৯ সালে উত্তরাখন্ডের কোনো আসনে জয় পায়নি বিজেপি। কংগ্রেস সরকারের ব্যর্থতার জন্য এবার কয়েকটি আসন পাওয়ার আশা করছে বিজেপি। ২০০৯ সালে হিমাচলের চারটির মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছিল। বিহারে সাতটির মধ্যে চারটিতে জয় পায় বিজেপি। লালু প্রাসাদের রাষ্ট্রীয় জনতা দল পেয়েছিল দুটি আসন। কিন্তু এবার লালু প্রাসাদ তার দল থেকে শক্ত প্রার্থী দাঁড় করিয়েছেন। কংগ্রেস দুটি আসনে তাদের প্রার্থী দিয়েছে। বিজেপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ৫টি আসনে। পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে বাবুল সুপ্রিয় ছাড়া বিজেপির আর কোনো প্রার্থীর জেতার সম্ভাবনা নেই। আগামী ১২ মে উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গের ৪১টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ মে ফলাফল পাওয়া যাবে।