সরকারের মেয়াদ শেষের আগেই গতকার বুধবার জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ (এনএসি) থেকে বিদায় নিয়ে নিলেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। দশ জনপথের বিপরীতে এনএসি’র দপ্তরে বিদায় অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকলেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহও। খবর আনন্দবাজারের
কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের প্রথমবারে সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে এই পরিষদ গঠন করেছিল মনমোহন সরকার। যার মাধ্যমে সোনিয়াকে পূর্ণমন্ত্রীর সমান মর্যাদাও দেওয়া হয়েছিল সরকারিভাবে। সরকারের সেই পদক্ষেপের ভিত্তিতেই সোনিয়ার বিরুদ্ধে সমান্তরাল ক্ষমতার কেন্দ্র সংক্রান্ত অভিযোগ উঠতে থাকে। কেননা সোনিয়ার নেতৃত্বাধীন এই পরিষদই তথ্যের অধিকার, একশো দিনের কাজ, অসংগঠিত ক্ষেত্রের সামাজিক সুরক্ষার মতো বিষয় নিয়ে সরকারকে পরামর্শ দেয়। এই সব বিষয়ে একের পর এক আইন পাশ করে সরকার।
দ্বিতীয় ইউপিএ জমানার শেষ দিকে এনএসি’র গুরুত্ব কমতে থাকে। কারণ, যে ধরনের সামাজিক প্রকল্প রূপায়ণের জন্য প্রস্তাব দিতে শুরু করে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ। এনএসি খয়রাতির অর্থনীতির প্রস্তাব দিচ্ছে বলে দাবি করেন তাঁরা। এনএসি-র সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় ও অর্থ মন্ত্রকের মতবিরোধও হয়। গত দেড় বছরে এনএসি’র কোনও বৈঠকই হয়নি। গতকাল পরিষদ কার্যত ভেঙে দেওয়ার মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী সেই আর্থিক সঙ্কটের প্রসঙ্গটিই ফের তুলে ধরেন। পরিষদের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রের অর্থ সঙ্কট না হলে জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদের অন্য সুপারিশগুলি রূপায়ণের চেষ্টা করত সরকার। পরিষদের সভানেত্রী বলেন, জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা ছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা। কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এনএসি ইতিবাচক পরামর্শ দিয়েছে। ৬টি বিভাগে ৪১টি বিষয়ে পরিষদের পরামর্শ সংবলিত একটি নথিও গতকাল প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন কংগ্রেস সভানেত্রী। ইউপিএ সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এনএসি’র মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।
