আগামী ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে পরোক্ষ করের উপর নির্ভরশীলতা না বাড়িয়ে প্রত্যক্ষ কর কাঠামোর উপর জোর দিতে দাবি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র)। বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়। জেলাভিত্তিক প্রাক-বাজেট আলোচনার মাধ্যমে তৃণমূল থেকে পাওয়া বেশ কিছু সুপারিশও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। বৈঠকে বৈদেশিক ঋণ নির্ভরশীলতা কমিয়ে কর খেলাপিদের কাছ থেকে কর আদায়ের উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানানো হয়। প্রয়োজনে কর প্রশাসনকে বিকেন্দ্রীকরণ ও কর আইন সংশোধন করা যেতে পারে। পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষা নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষা খাতে মোট বাজেটের ২০ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে মোট বাজেটের ১০ শতাংশ বরাদ্দের সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। সভায় সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, বেগম শিরিন আখতার এমপি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক এম আবু ইউসুফসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সুপ্র-এর চেয়ারপার্সন মুস্তাফিজুর রহমান। আর সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির নির্বাহী পরিষদের সদস্য আবদুল আউয়াল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম এ মান্নান বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। সে চিন্তা করেই বাজেট করা হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্য খাতে বছর বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করেও আশানুরূপ সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে ডাক্তাররা জেলা ও গ্রাম পর্যায়ে না যাওয়ায় স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রাম অঞ্চলের মানুষ। তাই গ্রাম ও জেলা পর্যায়ে ক্লিনিকগুলোতে কিভাবে সুবিধা দেয়া যায় সে চিন্তা করা হচ্ছে।
শিরিন আখতার বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাজেট করা প্রয়োজন। তবে যে খাতে যতটুকু বরাদ্দই দেয়া হোক তা সঠিকভাবে ও স্বচ্ছতার সাথে ব্যবহার হওয়া নিশ্চিত করতে হবে। বাজেটের অর্থ ব্যবহারে তদারকি খুব গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত। এদিকে এবার বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জেনেছি এবার এ সুবিধা দেয়া হবে না। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ খাতে বেশি বরাদ্দ না দিয়ে অন্য প্রয়োজনীয় খাতগুলোতে বরাদ্দ বাড়ানো দরকার।
তৃণমূল থেকে পাওয়া সুপারিশমালার আলোকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রের সদস্য সাকেরা নাহার। তিনি বলেন, আগামী বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে যে বরাদ্দ দেয়া হবে, তাতে প্রতিটি ক্ষেত্রে জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড-এর ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনায়ও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি মালিকানায় ও ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুত্ উত্পাদনের উদ্যোগ নিতে হবে। কৃষকের জন্য ভর্তুকির পরিমাণ বৃদ্ধি ও দরিদ্রদের জন্য স্বাস্থ্যকার্ড চালুর দাবি জানান তিনি।
সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন বলেন, বাজেট বাস্তবায়ন করতে হলে আয়কর ব্যবস্থাপনায় আমূল সংস্কার আনতে হবে। সরকার আয়করে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, দেশে অনেক পেশা রয়েছে, যেগুলো ভ্যাটের বাইরে রয়েছে। ওইসব পেশার মানুষকে ভ্যাটের আওতায় আনতে হবে।
সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, গ্রাম থেকে যেসব দাবি আসবে, সেই আলোকে বাজেট প্রণয়ন করার কথা। কিন্তু আমাদের দেশে ওপর থেকে বাজেট তৈরি হয়। যা কিছুতেই কাম্য হতে পারে না। কর- জিডিপি রেশিও (জিডিপিতে করের অবদান) বাড়ানোর পাশাপাশি প্রত্যক্ষ কর আয় বাড়ানোর উপর জোর দেন তিনি।
