না’গঞ্জে সমাবেশ করতে চান খালেদা জিয়া

আপডেট : ০৮ মে ২০১৪, ২৩:১০
আগামী ১৪ মে নারায়ণগঞ্জে সমাবেশ করতে চান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত্ আইভি ‘না’ বললেও বিএনপি সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটি আশা করছে শেষ পর্যন্ত অনুমতি মিলবে। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে আইভির প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর আগে সাত খুনের শিকারদের পরিবারকে সান্ত্বনা জানাতে দলীয় প্রধানের নির্দেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ.স.ম হান্নান শাহ’র নেতৃত্বে আট সদস্যের প্রতিনিধি দল গতকাল নারায়ণগঞ্জ গেছেন। যাওয়ার আগে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হান্নান শাহ সাংবাদিকদের বলেন ‘আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চাই। মেয়র শেষ পর্যন্ত অনুমতি দেবেন বলে আমরা আশাবাদী।’ সমাবেশের অনুমতি না দেয়ার ঘটনাকে খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে ‘হটানোর ষড়যন্ত্র’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন নারায়ণগঞ্জে নিহতদের পরিবারকে সান্ত্বনা জানাতে, সহানুভূতি জানাতে যেতে চান। তাকে বাধা দেয়া গণতন্ত্রকে বাধা দেয়ার শামিল।’ মেয়র আইভী বিএনপিকে ১৪ মে সমাবেশ করতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে অনুমতি দেবেন আশাবাদী ফখরুল। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিচারাধীন জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচার কাজ অস্থায়ী আদালতে স্থানান্তরের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে হেয় করতে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ এই মামলা করা হয়েছে। এই মামলার বিচার একটি দায়রা আদালতে চলছিল। আইন মন্ত্রণালয় তা আলিয়া মাদ্রাসায় নেয়ার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এর কারণ হল খালেদা জিয়াকে হয়রানি করা। খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার পূর্ব পরিকল্পনার অংশ এসব। নারায়ণগঞ্জে ১৪ মে জনসভা করার ঘোষণা দেয় জেলা বিএনপি। বঙ্গবন্ধু সড়কে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে বুধবার আবেদন করেন জেলা বিএনপির সভাপতি। তবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করে অনুমতি না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন মেয়র। ‘দেশ অস্বাভাবিক অবস্থায়’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেছেন, গণতন্ত্র আজ লুণ্ঠিত হচ্ছে পদে পদে। হত্যা-গুম এখন নিত্যদিনের ঘটনা। মনে হচ্ছে প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু হয়েছে। দেশে এখন অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে।। কোনো মানুষের নিরাপত্তা নেই। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হত্যা-গুম ও অপহরণ বন্ধ কর:স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এতে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালাম বলেন, ভাগ্যের কারণে আওয়ামী লীগের হাত থেকে এখনও বেঁচে আছি। গণতন্ত্রের জন্য অস্ত্র হাতে লড়াই করার সাহস ছিল আমাদের। আজ যদি আমরা অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামি তাহলে সমস্যার সমাধান হবে না। বিএনপি অস্ত্রের রাজনীতি করে না। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাত। ‘সবকিছু ভারতের প্রেসক্রিপশনে’ গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী যুবদল আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আওয়ামী লীগ ভারতের প্রেসক্রিপশন দিয়ে দেশ চালাচ্ছে। সবই চলছে ভারতের কথায়। কিন্তু দুঃখের বিষয়-ভারতের মতো দেশপ্রেম নেই আওয়ামী লীগের। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ সব বন্দির মুক্তি এবং সর্বসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। ‘দানবের চেয়েও ভয়াবহ’ সাত খুনের ঘটনায় র্যাবের কর্মকর্তাসহ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা। গতকাল কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। এসময় খোকা বলেন, খুন, গুম ও অপহরণের বিরুদ্ধে কথা বলায় সরকার আমাকে চিকিত্সার জন্য বিদেশে যেতে দেয়নি। অনির্বাচিত এ সরকার যা করছে তা দানবের চেয়েও ভয়াবহ।