সিলেটে টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে এক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, সিলেটের হাওর অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থা একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্নের উপর নির্ভর করে। ভারত বিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য তৈরি রিজার্ভারের পানি ধারাবাহিকভাবে ছেড়ে দিলে এ অঞ্চলের কৃষকরা বোরো ধান রোপণের জন্য সময় পাবে না। বাঁধটি নির্মিত হলে শুধু এ অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক, পরিবেশ এবং পানির উেসর উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে তা নয় সমগ্র ভাটি অঞ্চল ক্ষতির সম্মুখীন হবে। দেশের বিশাল এলাকায় এর প্রভাব পড়বে, প্রকারন্তরে সারা দেশের কৃষি সংকটে পড়বে। অভিজ্ঞ গবেষক দলের মাধ্যমে যৌথভাবে পরিবেশগত প্রভাব পর্যালোচনা করে এবং দক্ষ কূটনীতিকের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান করা উচিত।
‘প্রস্তাবিত টিপাইমুখ বাঁধের সম্ভাব্য ফলাফল: আমাদের কৃষি ও পরিবেশের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা’ শীর্ষক সেমিনারটি গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। এফআইভিডিবি’র নির্বাহী পরিচালক যেহীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন এফআইভিডিবি’র প্রধান প্রকৌশলী সদানন্দ ভট্টাচার্য, আইডিয়া’র নির্বাহী পরিচালক নজমুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রব, এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম, বেদানন্দ ভট্টাচার্য এবং শামসুল হুদা। পানি অধিকার ফোরাম এর আয়োজনে এবং এএলআরডি, বেলা ও এফআইভিডিবি-র সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম এবং বাংলাদেশ পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী মু. ইনামুল হক পৃথক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম তার প্রবন্ধে বলেন, ভারত ৩৫টি আন্ত:সীমান্তীয় নদীতে ৫০টি বাঁধ নির্মাণ করেছে। বাংলাদেশের উচিত হবে বাঁচার স্বার্থে এসব নদীর ব্যাপারে আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে বুদ্ধিভিত্তিক প্রচেষ্টা নেয়া। তিনি আরও বলেন, বিদ্যুত্ উত্পাদন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ সুবিধার কথা বলা হলেও এই বাঁধ নির্মাণের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক ও সামরিক উদ্দেশ্য।
প্রকৌশলী ইনামুল হক বলেন, ভারতের এই উদ্যোগ মনিপুর, মিজোরাম, কাছাড় এবং বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের মানুষ ও পরিবেশের জন্য সমূহ ক্ষতিকর। যদি ১৫.৫ বিলিয়ন কিউবিক পানি রিজার্ভ করতে হয় তবে ৪-৫ বছর পর্যন্ত সময় নদীর পানি আটকে রাখতে হবে। বিদ্যুত্ কতটুকু উত্পাদন হবে তা নিয়ে বিতর্ক আছে। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এবং পানি প্রবাহ হিসাব করে দেখা যায়, সারাবছর পানি আটকে রেখেও ২৮৫ মেগাওয়াট এর বেশি বিদ্যু উত্পাদন করা যায় না।
এফআইভিডিবি’র প্রধান প্রকৌশলী সদানন্দ ভট্টাচার্য বলেন, এ বাঁধ নির্মিত হলে এ অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে। বিশেষজ্ঞদের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে যৌথ সমীক্ষা করতে হবে। যৌথ নদী কমিশনে শুধু সরকারি কর্মকর্তা নয়, বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
