সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে গুম, অপহরণ, হত্যা ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করার আহবান জানায় ইইউ। এছাড়া সংলাপে বসে, সমঝোতায় পৌঁছে নতুন নির্বাচন দেয়ার আহবান জানিয়েছে ইইউ। ‘ইউরোপ ডে’ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে ইইউভুক্ত দেশের নয়জন রাষ্ট্রদূত এ আহবান জানান।
বাংলাদেশে ইইউ রাষ্ট্রদূত ও ডেলিগেশন প্রধান উইলিয়াম হানা সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, অপহরণ, গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি ঘটনায় স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত করতে হবে। ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে এটা জরুরি। এই ইস্যুতে ইইউ-এর অবস্থান স্পষ্ট। একাধিক বিবৃতি ও সরকারের কাছে লেখা চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ ও প্রতিটি মামলার দ্রুত তদন্তের আহবান জানানো হয়েছে। আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করলে এধরনের ঘটনা আর ঘটবে না। অপরাধীরা নিবৃত্ত হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে ইইউভুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্পেনের রাষ্ট্রদূত লুই তেজাদা শেকন, ফরাসী রাষ্ট্রদূত মিসেল ট্রাংকুইয়ার, জার্মান রাষ্ট্রদূত আলব্রেখট কনসে, নেদারল্যান্ডস-এর রাষ্ট্রদূত গারবেন জোয়ার্ড ডি জং, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত মিস হানে ফুগল এসকার, সুইডেনের চার্জ দ্য এফেয়ার্স মিস কারিন রোহলিন, ইতালির চার্জ দ্য এফেয়ার্স এডমনডো ফ্যালকনি ও ব্রিটিশ চার্জ দ্য এফেয়ার্স নিক লো।
ইইউ রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হানা সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে পরবর্তী নির্বাচনের আগে দলগুলোকে সংলাপে বসতে হবে। সংলাপেই যে কোন মতবিরোধ ও সমস্যার সমাধান হতে পারে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর ইইউ-এর যে অবস্থান ছিল তা এখনো অপরিবর্তিত আছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ চার্জ দ্য এফেয়ার্স নিক লো সুনামগঞ্জ থেকে নিখোঁজ হওয়া ব্রিটিশ নাগরিক মজিবুর রহমান ও তার গাড়ি চালককে উদ্ধার করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান। ব্রিটিশ সরকার এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর অফিস, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে। এছাড়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীসহ এ পর্যন্ত যারা অপহূত হয়েছেন তাদের ফিরিয়ে আনার আহবান জানান তিনি।
ইইউ রাষ্ট্রদূত র্যাব নিষিদ্ধ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, রাষ্ট্রীয় কোন বহিনী বিলুপ্ত করার কথা আমরা বলবো না। তবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নিখোঁজ হওয়া প্রতিটি মানুষকে খুঁজে বের করতে হবে। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর এক বছরে গার্মেন্টস সেক্টরে অনেক কাজ হয়েছে। দুইশ’ কারখানা পরিদর্শক নিয়োগ ইতিবাচক। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার রূপরেখা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
